নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় মেতে উঠেছে বাংলাদেশ তায়কোয়ানডোর বাবলু ও এরশাদ।

জাতীয় খেলোয়াড়, জাকির হোসেন
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
60.8kভিজিটর

বাংলাদেশের তায়কোয়ানডো অঙ্গন বর্তমানে এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে, যেখানে খেলাধুলার প্রসারের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতাই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির অদূরদর্শী ও অপেশাদার সিদ্ধান্তের কারণে এই সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিনটিতে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
বিশেষ করে জাতীয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬ আয়োজনে যে ধরনের গোপনীয়তা ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। নিয়ম অনুযায়ী সকল জেলা ও ক্লাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর কথা থাকলেও, শুধুমাত্র নিজেদের অনুগত কয়েকটি জেলাকে গোপনে চিঠি পাঠিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও সাধারন সম্পাদক লে.ক এরশাদুল হক টুর্নামেন্ট টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং গোপনে সম্পন্ন করে ফুটবলার বাবলুকে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান করেছে ।
যার ফলে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও রাজশাহী সহ আরও অনেক পদকজয়ী শক্তিশালী জেলাগুলো অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা সরাসরি মেধার অবমূল্যায়ন এবং ক্রীড়া সুলভ আচরণের পরিপন্থী।
ফেডারেশনের ভেতরের এই নোংরা রাজনীতি এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে অ্যাথলেটদের জীবনযাত্রায়। ১৪তম দক্ষিণ এশীয় গেমসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার হরণ করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অ্যাথলেটদের দৈনিক ভাতা ও খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত টাকার একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে; যেখানে ৭৫০ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে নামমাত্র খাবার দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে হয়েছে।

শুধু তাই নয়, চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত টাকা না পাওয়া এবং নিম্নমানের জার্সি-সরঞ্জাম ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। অন্যদিকে নারী অ্যাথলেটদের প্রতি অমানবিক আচরণ, যেখানে মেনস্ট্রুয়াল ব্রেকের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও কোনো ন্যূনতম সহানুভূতি দেখানো হয়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় , ফেডারেশনে বর্তমানে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারিগরি জ্ঞানহীন ও লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের কোচ নিয়োগ দেওয়ার ফলে খেলোয়াড়রা আধুনিক প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ইনজুরির ঝুঁকিতে পড়ছেন। অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, বর্তমানে ফেডারেশনে ‘তেলবাজি’ ও ‘স্বজনপ্রীতি’র সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। এই ফেডারেশনের সহ সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবলু ( ফুটবলার ) তিনি তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের কিছু মানুষ নিয়ে নিজের আর্থিক স্বার্থ হাসিল ও ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনায় মেতে উঠেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিগত টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত নেওয়াতে তায়কোয়ানডো ক্রীড়া বিদদের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠেছে।
খেলোয়াড়রা বলেন , একজন প্রবীণ ফুটবলার কিভাবে তায়কোয়ানডো খেলার চেয়ারম্যান হয়? এখানে যোগ্যতার কোনো স্থান নেই, ফুটবলার বাবলুর সাথে যাদের ব্যাক্তিগত খাতির আছে তাদেকে শুধু এডহক কমিটির সুবিধা দিচ্ছে। এই সামগ্রিক দুর্নীতির জাল ছিন্ন করে তায়কোয়ানডোকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের হস্তক্ষেপ এবং একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x