চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয়লাভ করেছেন রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতী সন্তান। তারা তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গহিরা গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। রাজনৈতিক ইতিহাসে সচরাচর এমন দৃশ্য আর দেখা যায়নি।
একই গ্রাম থেকে নির্বাচিত তিন সংসদ সদস্য হলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। তাদের এই বিজয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এছাড়া এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু ২২ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ২৬ বছর পর জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি ২৬ বছর পর জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে আসন পুনরুদ্ধার করল বিএনপি
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। চাচা-ভাতিজার এই যুগপৎ বিজয় গহিরা গ্রামের মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনেও ধানের শীষের জয়জয়কার। এই আসন থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন গহিরা গ্রামের আরেক সন্তান সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।