আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বিএনপির জনসভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনী বিজয়ের পর তার নেতৃত্বাধীন সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং কঠোর হস্তে দুর্নীতি মোকাবিলা করবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে জনসভায় তিনি বলেন, ‘বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র আমরা সক্ষম সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দুর্নীতি নির্মূল করতে। আগামীতে আমরা (বিএনপি) সরকারের একান্ত লক্ষ্য হবে দুর্নীতি নির্মূল করা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার নিশ্চিত সুযোগ পাবে।
আরো বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সমালোচনা করে মানুষের কোনো উপকার হয় না। “আমরা চাই কাজের রাজনীতি।
বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, খাল নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। “আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কি আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?” এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির আমলে চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড গড়ে উঠেছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
আগামীতে ক্ষমতায় গেলে আরও ইপিজেড করা হবে এবং চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দলের সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুটি বিষয়ে কঠোর নজর দেওয়া হবে। একটি হলো জননিরাপত্তা, যাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আরেকটি হলো দুর্নীতি।
“অতীতে বিএনপি সরকারে থাকার সময় আমাদের দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় পায়নি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে জানাই যে কেউ আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে বা দুর্নীতির মাধ্যমে পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে, ফজরের নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবারও একটি ষড়যন্ত্র চলছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দিন।
দুই দশক পর চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তৃতা করছেন তিনি। এর আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জনসভা করেছিলেন। এবার তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচারের দ্বিতীয় পর্ব শুরু করেছেন চট্টগ্রাম থেকে।
সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটির বিশিষ্ট নেতারা এবং দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ।