আগামী জাতীয় সংসদ ত্রয়োদশ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে (আলফাডাঙ্গা–বোয়ালমারী–মধুখালী) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৫ জন প্রার্থী। অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্রয়াদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়সহ তিন উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায় প্রার্থীদের নামের তালিকা—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় নাগরিক পার্টির মো. হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শরাফাত, জাতীয় পার্টির সুলতান আহমেদ খান, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মৃন্ময় কান্তি দাস এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মাদ খালিদ বিন নাছের।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নাম রয়েছে- মো. আবুল বাসার খান, মো. শাহাবুদ্দীন আহম্মদ, লায়লা আরজুমান বানু, মো. গোলাম কবীর মিয়া, শেখ আব্দুর রহমান (জিকো), মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও মো. সামসুদ্দিন মিয়া।
মনোনয়ন তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে একটি বিষয়। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান এর আগেও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রহমানের কাছে পরাজিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরিদপুর-১ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে এই আসনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারা ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তাদের সমর্থক ভোটারদের একটি বড় অংশ কার দিকে ঝুঁকবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিএনপি প্রার্থী, একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ছোট দলগুলোর উপস্থিতি ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। এতে করে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তিন উপজেলা ফরিদপুর-১ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ২১৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ জন। সবচেয়ে ছোট উপজেলা আলফাডাঙ্গায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪২ জন।৪০ টি ভোট কেন্দ্রে তালিকা করা হয়েছে। এ উপজেলা থেকেই দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ, ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি, ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১৯৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে।