বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দ্রা বাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নোমানুর রহমান নোমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইসমাঈল মোল্লাকে আসামি করায় বিএনপি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মান্দ্রা বাজারে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ফরিদ বেপারী ও তানভীর তালুকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ফরিদ বেপারী পক্ষ হিজলা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ইসমাঈল মোল্লা ও নোমানুর রহমান নোমানকে আসামি করা হয়।
তবে নোমানুর রহমান নোমান দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন আগে থেকেই তিনি উপজেলা সদরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ছিলেন। পরে বিকেল প্রায় ৩টা ৪৫ মিনিটে ইসমাঈল মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে যান এবং ইসমাঈলের হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হিজলা থানায় অবস্থান করেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও জিডির তথ্য যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত পক্ষের সঙ্গে নোমানুর রহমান নোমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সাংগঠনিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, নোমানুর রহমান নোমান ও ইসমাঈল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তারা অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ইসমাঈল মোল্লা সক্রিয় ছিলেন এবং সে সময় তাকে দুইবার কারাবরণ করতে হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, “ইসমাঈল মোল্লা দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী বলেন, “নোমানুর রহমান নোমান ও ইসমাঈল মোল্লার সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদের দুর্বল করতেই একটি মহল এই মামলা করেছে।”
নেতাকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং জিডির তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনার উদঘাটন ও নির্দোষ হলে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে।
মামলার বাদী ফরিদ বেপারীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।