বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) অর্থ ও হিসাব বিভাগে এক নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে চলমান বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় অর্থ ও হিসাব বিভাগের সহকারী পরিচালক জনাব মো. রুহুল আমিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
আজ ১৯ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৩:৩০ মিনিটে ব্রি কার্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্রি-র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) জনাব মো. কাউসার আহমেদ এবং বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুলের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও উসকানিতে এই হামলা চালানো হয়। তাদের মদদে হিসাব বিভাগের অ্যাকাউন্টস অফিসার জনাব আনোয়ারুল আজিম ও জনাব মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল কর্মী সহকারী পরিচালক জনাব রুহুল আমিনের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
নেপথ্যে গভীর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আক্রান্ত কর্মকর্তা জনাব রুহুল আমিন বিগত কিছুদিন ধরে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন আর্থিক অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে অভিযুক্তদের বেশ কিছু বিতর্কিত বিল ও আর্থিক দাবির বিরুদ্ধে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়ার পর থেকেই তার ওপর এই মহলটি ক্ষিপ্ত ছিল।
ভ্রমণ ও গাড়ি ব্যবহারের ভুয়া বিল:
অভিযুক্ত অ্যাকাউন্টস অফিসার আনোয়ারুল আজিমের বিরুদ্ধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় ভুয়া ভ্রমণ বিল (TA/DA) উত্তোলন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়মগুলো নিয়ে সম্প্রতি ব্রির বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছিল।
সম্মানীর নামে অবৈধ অর্থ উত্তোলন:
অপর অভিযুক্ত হিসাব বিভাগের মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় সভার আয়োজন দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে সম্মানী (Honorarium) গ্রহণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সহকারী পরিচালক (অর্থ) এই সম্মানী উত্তোলনের বৈধতা ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে ফাইল অবরুদ্ধ করলে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটি চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়।
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ক্ষোভের আগুন, তদন্তের দাবি:
প্রাতিষ্ঠানিক সততা রক্ষা করতে গিয়ে একজন কর্মকর্তা এভাবে নিজ দপ্তরে সন্ত্রাসী কায়দায় লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ব্রির সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সৎ কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার পর পরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্রি-র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
ব্রির সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, কেবল তদন্তের আশ্বাসেই এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। বিজ্ঞানী সমিতির পদের অপব্যবহারকারী ড. হাবিবুর রহমান মুকুল এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কাউসার আহমেদের মতো নেপথ্যের কুশীলবসহ প্রত্যক্ষ হামলাকারী আনোয়ারুল আজিম ও আনোয়ার হোসেনকে অনতিবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করতে হবে। ডিজি নিয়োগের মাত্র চারদিন পরেই এতো বড় একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে উল্লেখিত সকল আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।