গত বছরের ১৬ জুলাই সংঘর্ষের ঘটনাকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধ এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সকাল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার পাশাপাশি উপজেলা ও গ্রামীণ এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির পাঁচ প্লাটুনের পাশাপাশি র্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প, জেলা পুলিশ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি জানান, কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি পথসভা শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িয়ে পড়েন এবং কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালায়।
সেই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন এবং সাংবাদিক, পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন এবং সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন গোপালগঞ্জ জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পাশাপাশি ১৬ জুলাই রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কারফিউও বলবৎ ছিল।
গত বছরের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।