বরিশাল নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা গোরাচাঁদ দাস রোডের দিলবাগ গলিতে প্রায় ৬০টি পরিবারের বসবাস। এলাকাবাসীর নিয়মিত যাতায়াতের জন্য এই গলিটিই একমাত্র রাস্তা। এছাড়া এখানে কয়েকটি কোচিং সেন্টারও রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াত করতে হয়।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিগত কয়েক বছর ধরে কিছু অসচেতন ব্যক্তি বহুতল ভবনের বারান্দা থেকে বাসাবাড়ির নোংরা আবর্জনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি নিচের রাস্তায় ছুড়ে ফেলছেন। ফলে জনসাধারণের চলাচলের এই পথটি কার্যত একটি ব্যক্তিগত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তফসিল–৫ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং Public Nuisance (জনদুর্ভোগ) হিসেবে বিবেচিত।
বর্ষাকালে এসব আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যে অনেক বাসিন্দা চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি ভবনকে শনাক্ত করেছেন। গলির প্রতিটি বহুতল ভবনের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় কারা এবং কোন ভবন থেকে ময়লা ফেলা হচ্ছে তা শনাক্ত করা মোটেও কঠিন নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের বারবার অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকাবাসী একপ্রকার জিম্মি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সরকারি সিটি কর্পোরেশনের রাস্তার ওপর উপরতলা থেকে ময়লা ফেলা যেন কিছু মানুষের অলিখিত অধিকারে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে তারা জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।