নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

বরিশাল বাকেরগঞ্জের মামুন হাওলাদার হত্যা না করেও হত্যার আসামি হয়ে চট্টগ্রামের কারাগারে বন্দী দুই বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
164.8kভিজিটর

ঘটনাটি বরগুনার মিন্নির স্বামীর হত্যার ঘটনার মতো হলেও ঘটনাচক্রে বেঁচে যান এই ঘটনার কয়েকজন আসল নায়ক। মামলাটি পুনরায় তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে থলের আসল বিড়াল।

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের সেকান্দার হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদার(২২) এর সাথে বিগত ২৩ আগস্ট ২০২৪ সালের রাত অনুমান ১১:৪৫ ঘটিকার সময় ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা শাহ আলী মসজিদ সংলগ্ন সাইটপাড়া কবরস্থানের সামনে ফুটপাতের উপর ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বাগেরহাট সদর থানার ফতেপুর গ্রামের নিজাম খানের একমাত্র ছেলে খান মেহেদী হাসান (২৪) কে পরিকল্পিতভাবে তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য হত্যা করেন তারই চাচাতো ভাই সৈকত খান (২১)।

সৈকত খান উক্ত ঘটনার বিষয় মামলার দুই নাম্বার সাক্ষী হয়ে মূল ঘটনা থেকে সুকৌশলে নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। অনুসন্ধানে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয় উঠে আসে মামুন হাওলাদারের স্ত্রী রিয়া মনিসহ আরো কয়েকজনার নাম। এসব অনুসন্ধান করা হয় উক্ত ঘটনার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ এবং ভিকটিমের এলাকার একাধিক ব্যক্তিবর্গদের এবং আসামির আত্মীয়স্বজনদের সাথে আলাপ আলোচনা করে। এসব ঘটনার বিষয় আরও সত্যতা মিলে আসামি মামুন হাওলাদার দেয়া আদালতের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে।

উক্ত ঘটনার বিষয় আদালতে জবানবন্দীতে মামুন হাওলাদার বলেন, তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিতে আসে ভিকটিম সহ তার চাচাতো ভাই আর কয়েকজন লোক তারা মামুনকে দেখে হত্যার জন্য হামলা চালালে মামুন ভিকটিমের হাতে থাকা চাকু নিয়ে মামুন মৃত্যুর মুখ থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ভিকটিমকে আঘাত করে এবং ভিকটিম মারা যায়। আর এই ঘটনার বিষয় বিজ্ঞ কয়েকজন আইনজীবীর সাথে আলাপ করলে তারা বলেন এটি দ-বিধি আইনের ১০০ ধারার আত্মরক্ষার অধিকারের শামিল। যাহা সাধারণ ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য নয়।

ভিকটিমের জবানবন্দি আর মামলার এজাহারের সাথে কোন মিল না থাকার পরেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসাদুভাবে লাভবান হয়ে মামুনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেননি। যাতে বোঝা যায় এই ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা এমন ধারণা বিজ্ঞ আইন বিশ্লেষক সহ সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তিবর্গদের। এই ঘটনার পর পরই মামুনের স্ত্রী বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক এর মাধ্যমে মামুনের স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর একটি তালাকে নোটিশ পাঠান যেখানে তিনি ০৪/০২/২০২৫ ইং তারিখ তালাকের বিষয়ে উল্লেখ করেন। এই তালাকের মাধ্যমে আরো একবার প্রমাণ হয় এই হত্যাকান্ডের সাথে মামুনের স্ত্রীর ওতপ্রোত জড়িত থাকার কথা।

মামুনের পরিবার গরিব হওয়ায় এই মামলাটি তেমন কোন তদবির না করতে পারায় যেমন খুশি তেমন ভাবে এজাহার করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। উক্ত ঘটনার সময় মামুনকে যেভাবে বেধারক মারা হয়েছে মামুন শুধু বেঁচে আছে এটাই আশ্চর্যের বিষয়। সেনাবাহিনী এসে মামুনকে হত্যা করতে আসা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করেন। উক্ত ঘটনার বিষয় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, যদি ওই সময় সেনাবাহিনী না আসতো তাহলে মামুনকেও হত্যা করে ফেলতো তারা।

তাই উক্ত হৃদয়বিদারক ঘটনার বলির শিকার হয়ে প্রায় দুই বছর যাবত আইনের খাঁচায় চট্টগ্রাম জেলে বন্ধী আছেন মামুন। উক্ত ঘটনার সময় চরম আক্রমণের শিকার হয়ে অসুস্থতার বেড়াজালে কারাবন্দী হয়ে দিন দিন ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন চট্টগ্রাম ইপিজেড থানার জি, আর ৯৪/২০২৪ নং মোকদ্দমার দন্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারার মামলার একমাত্র আসামি মামুন হাওলাদার।

ভিকটিমের মামা তথা অত্র মামলার বাদী কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকের কথা শুনেই ফোন কেটে দেন। তাই তার কোন বক্তব্য দেওয়া গেল না।
ভিকটিম খান মেহেদি হাসানের বাবা মুঠোফোনে প্রতিবেদককে তেমন কোন তথ্য দেয়নি। পরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভিকটিমের বাবার বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।

ভিকটিমের এলাকার গ্রাম পুলিশ প্রতিবেদককে বলেন আমি এই এলাকার গ্রাম পুলিশের দায়িত্বে আছি আমি এই ঘটনাটা শুনেছি হৃদয়বিদারক ওই ব্যক্তির একমাত্র সন্তান যিনি চট্টগ্রামে হত্যা হয়েছে তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যাতে শাস্তি পায় সে ব্যাপারেও প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।

ভিকটিমের এলাকার ইউপি সদস্য প্রতিবেদককে বলেন আমি এই ঘটনা শুনেছি তবে যেহেতু ঘটনাটি চট্টগ্রামের ঘটেছে সেজন্য বেশি কিছু বলতে পারব না তবে আমরা এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের উপযুক্ত শাস্তি কামনা করি।

ভিকটিমের এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিবেদককে বলেন ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি তবে তেমন কিছু জানিনা আমি চাই যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের সকলের বিচার হোক এবং যে নির্দোষ সে মুক্তি পাক।

আসামি মামুন হাওলাদারের বাবা প্রতিবেদককে বলেন আমার ছেলে পরিস্থিতির শিকার হয়ে আর আমরা গরীব হওয়ার কারণে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পড়ে আছে।এই ঘটনার সাথে আরো যারা জড়িত তাদেরও আমি বিচার দাবি করি তিনি আরো বলেন আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়ে থাকে তার বিচার হবে এটা আমি চাই কিন্তু আমার ছেলে কি একাই এই অপরাধ করেছে না অন্য কোন ব্যক্তিরা এই অপরাধের সাথে যুক্ত আছে তাদেরও বিচার আমি চাই।এই ঘটোনাটা হলো বরগুনার আলোচিত মিন্নির পাতানো হত্যাকা-ের ঘটনার মতো তাই এই হত্যাকা-ের সাথে যারা জড়িত সকলের বিচার দাবি করি এবং আমার ছেলেকে যারা মেরে মুমূর্ষ করেছে তাদের সকলের আমি বিচার চাই।

উক্ত ঘটনার বিষয় ইপিজেড থানার জি,আর ৯৪/২০২৪ নং মোকদ্দমার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ তরিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন উক্ত মামলা পাওয়ার পরে আমি দুই তিন মাস তদন্ত করেছি ঘটনার বিষয়ে যেটা পেয়েছি সেইসকল তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করেছি। যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তা পরের চার্জশিট প্রদানকারী কর্মকর্তার দেখা উচিত ছিল। আমি এর বেশি আর কোন কিছু বলতে পারব না। তবে এসআই তরিকুলের ব্যাপারে আসামির বড় ভাইয়ের থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

ইপিজেড থানার জি,আর মামলা নং-৯৪/২০২৪ এর চার্জশিট প্রধানকারী কর্মকর্তা এসআই আরিফ হোসেন মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন অনেক আগে উক্ত মামলাটি চার্জশিট দিয়েছি তবে আমি মামলাটি পেয়েছি এক বছর পরে জব্দ তালিকা সহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম আগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পূর্ণ করেছে। এর বেশি আমি বলতে পারব না চার্জশিট কপি না দেখে। তাকে প্রশ্ন করা হয় আপনার প্রতিবেদনটি আসলে কি যথাযথ হয়েছে তখন তিনি সঠিক উত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমি আপনাকে পরে বলব।

উপরোক্ত ঘটনার বিষয় বরিশাল জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ বেলাল হোসেন এর নিকট আইনি মতামত জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সকল কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদককে মতামত হিসেবে বলেন ঘটনাটি পর্যালোচনা করে যা জানতে ও বুঝতে পারলাম এই ঘটনার সাথে আরো অনেকে জড়িত থাকতে পারে কেননা প্রথমে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয় আসামিকে এরপর আসামি তার আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে ভিকটিমের হাত থেকে চাকু নিয়ে তাকে আঘাত করে যে আঘাতে ভিকটিম মারা যায় যাহা আসামী ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দীর মাধ্যমে স্বীকার করেছেন।

কিন্তু আসামিও যে পরিমাণ মার খেয়েছেন ঘটনার সময় তাতে তিনিও মারা যেতে পারতেন সেনাবাহিনী এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হস্তান্তর করেন এই ঘটনার বিষয় যদি আরও অধিকতর তদন্ত করা হয় তাহলে আরো অনেকের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসতে পারে তাই তিনি ঘটনার বিষয় আরও তদন্তের জন্য জোর দাবি জানান বিজ্ঞ উচ্চ আদালত এর কাছে। তিনি প্রতিবেদককে আরো বলেন জনস্বার্থে ও ঘটনার সঠিক বিষয় উদঘাটন করার জন্য এবং এর সাথে আরো যারা জড়িত আছে তাদের শাস্তির দাবির জন্য উচ্চ আদালতে উক্ত ঘটনার বিষয় আরো অধিকতর তদন্তের জন্য একটি রিট পিটিশন দায়ের করতে চান তিনি সময় সাপেক্ষ্যে।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x