বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শত বছরের নীল খোলা খেলার মাঠ ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষার জন্য কয়েক শতাধিক এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে গত ২৯ শে মার্চ বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরমোনাই ঐতিহ্যবাহী শত বছরের নীলখোলা খেলার মাঠ স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু আনিসহ তার সঙ্গপাঙ্গরা দখল করার পাঁয়তারা করে এবং একটি পাকা দালান এর এক্সট্রাকচার দার করিয়ে খেলার মাঠ দখল করার উদ্যোগ নেয়। যেহেতু এই খেলার মাঠ দলমত নির্বিশেষে সকল এলাকাবাসীর তাই এলাকাবাসী প্রথমে চরমোনাই ইউনিয়ন তহশিলদার এরপরে বরিশাল সদর ভূমি কর্মকর্তা কে মৌখিকভাবে অবহিত করলে তারা কোনো কঠিন পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর দিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয় তাহলো,যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সবিনয় বিনীত নিবেদন এই যে, বরিশাল সদর উপজেলাধীন ০৫ নং চরমোনাই ইউনিয়ন অন্তর্গত জে.এল. ৯২ নং চরমোনাই মৌজায় ০১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত এস.এ. ৪৭৭ নং দাগ, বর্তমান বি.এস. জে.এল, ৭০ নং চরমোনাই মৌজায় বি.এস. ৫২৩ নং দাগ। উক্ত দাগের জমির উপরে ০৭ নং ওয়ার্ডের নীলখোলা খেলার মাঠটি সু-দীর্ঘ একশত বছরের পুরাতন। উক্ত মাঠে বৃটিশ সময় হইতে অদ্য পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা পরিচালিত হইয়া আসিতেছে। বর্তমান এলাকার কিছু ভুমি দস্যু উক্ত খেলার মাঠটির উত্তর অংশ দিয়া অবৈধ ভাবে দখল পূর্বক একটি বহুতল ভবন (৫ তলা) নির্মাণ করিয়া আসিতেছে এবং প্রথম তলা ইতিমধ্যে নির্মিত হইয়াছে। উক্ত ঘটনা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেওয়া স্বত্বেও কোন প্রকার প্রতিকার পাওয়া যাইনি। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে খেলার মাঠটি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক।
উক্ত ব্যাপারে বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার ভূমি এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আগামী ৪ তারিখ সোমবার সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে ওখানে জমির পরিমাপ করে দেখব যদি সরকারি জমিতে কোন ধরনের কোন স্থাপনা নির্মাণ করা হয় তা অপসারণ করা হবে এবং এলাকাবাসীর খেলার মাঠ উদ্ধার করা হবে এব্যাপারে কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।সরকারি জমি অবশ্যই সরকার রক্ষা করবে কাউকে অবৈধভাবে দখল করতে দিবে না।
চরমোনাই ইউনিয়নের নীল খোলা খেলার মাঠ রক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেই অভিযোগের ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি তাই তার কোন বক্তব্য দেওয়া গেল না।