নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

লটারির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা আয়োজকরা, ক্ষোভে মঞ্চ ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
38.5kভিজিটর

নওগাঁর পত্নীতলায় মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলায় লটারির নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের বিরুদ্ধে। পুরস্কার না দিয়েই পালিয়েছেন আয়োজকরা। এ ঘটনায় ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে সটকে পড়েন আয়োজকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা মূল মঞ্চে ভাঙচুর চালায়। পরে মেলার কয়েকটি দোকান ও স্টলেও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাত করা হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ছিল মেলার শেষ দিন। সমাপনী অনুষ্ঠান ও লটারির ড্র দেখতে সন্ধ্যার পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজারও মানুষ জড়ো হন। ঘোষণা অনুযায়ী রাত ১১টায় লটারির ড্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ড্র শুরু হয়নি। ওইসময় উপস্থিত লোকজন পুরস্কারের মোটরসাইকেল দুটি কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ড্র শুরুর আগে পুরস্কারের মোটরসাইকেল দুটি সবার সামনে মঞ্চে রাখার কথা ছিল। মোটরসাইকেল মঞ্চে না থাকায় ড্র নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছিল। এভাবে মেলায় জড়ো হওয়া লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

দীর্ঘ সময়েও মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে মঞ্চে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন মেলার মূল মঞ্চে ভাঙচুর চালান। পরে মেলার বিভিন্ন দোকান ও স্টলেও হামলা চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার লুটপাট করা হয়।
ঘটনার পর মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই দ্রুত মেলা প্রাঙ্গণ ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মেলা প্রাঙ্গণে বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মালামাল লুট ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য মেলা কমিটির চরম অব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলায় প্রবেশের জন্য ২০ টাকা করে টিকিট বিক্রির পাশাপাশি লটারির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেউ কেউ একাধিক টিকিট কিনেছেন। কোনো কোনো ব্যক্তি প্রতিদিনের প্রবেশ টিকিট বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। যাদের বেশিরভাগই শ্রমিক ও দিনমজুর। মেলা পরিচালনার অনুমতি, লটারির বৈধতা, টিকিট বিক্রির হিসাব এবং মেলার সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া পুরোটাই হয়েছে অবৈধ প্রক্রিয়ায়। এতে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান এবং নজিপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ জেড মিজানের।

বরিশাল থেকে এসে মেলায় স্টল নেয় ভাই ভাই টেক্সটাইল। এ স্টলটিতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস ছিল, যার পুরোটাই লুটপাট করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্টলটির ম্যানেজার শামীম বলেন, ‌‘মেলা কমিটি কোটি টাকার লটারি বিক্রি করেও সামান্য কয়েক লাখ টাকার মোটরসাইকেলের লোভ সামাল দিতে পারলো না। আমরা শেষ হয়ে গেলাম। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে গেছি। মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে এখনো কোনো আশ্বাস দিচ্ছে না প্রশাসন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেলার স্টলে অংশ নেওয়া এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘হঠাৎ শত শত লোকজন দোকানের দিকে এসে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে। ওইসময়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করেও পুলিশকে আমরা পাশে পাইনি। মাঠে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলেন। অথচ এই পুলিশের সুপারিশেই মেলার মেয়াদ বাড়িয়েছিল জেলা প্রশাসন।’

তিনি বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এটা নিয়ে যাতে বেশি বাড়াবাড়ি না করি, সেজন্য বিএনপির নেতারা আমাদের মেলার মাঠে এসে চাপ দিচ্ছেন।’
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের পরিচালক রহিদুল ইসলাম রহিদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ‘লুটপাটের সময় হাজারও দর্শক ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আয়োজক কমিটির পলাতক পরিচালককে আটকের চেষ্টা চলছে।’
নওগাঁ জেলা প্রশাসন থেকে ইস্যু করা মেলা অনুমতির চিঠির শর্ত অনুযায়ী রাত ৯টার পর কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিনিষেধ ছিল। এর একটি অনুলিপি পত্নীতলা উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর পরও সমাপনী অনুষ্ঠান কীভাবে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত চলছিল জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা বলেন, ‘মেলার আয়োজকদের অনুরোধে সমাপনী অনুষ্ঠানে কিছুটা বেশি সময় দিয়েছিলেন এসিল্যান্ড। পরে আয়োজক পালিয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি দোকানে লুটপাট চালায়। শেষ সময়ে এসিল্যান্ড উপস্থিত ছিলেন না। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় আমরা অস্বীকার করছি না।’
দায়িত্ব অবহেলায় ইএনওকে শোকজ করা হবে কি-না—জানতে চাইলে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আইনগত সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বলা হয়েছে। রাতে সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন বলে আমাকে জানানো হয়েছিল।

তবে নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত করায় দলের কিছু নেতারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে আমি নিজে মেলায় কখনোই যাইনি। পৃষ্ঠপোষকতার প্রশ্নই আসে না।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x