এক বছরেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়নি, আতঙ্কে ছাত্রীরা
বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ, উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক বছরেও কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও তিনি বহাল থাকায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন ইকবাল হোসেন রুবেল। তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৫ মে কয়েকজন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত এবং ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেন কয়েকজন ছাত্রী।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। একাধিক ছাত্রী শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পর ২৭ মে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সেলিম মাহমুদ বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের লিখিত বক্তব্য নেন।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ জুলাই দেওয়া প্রতিবেদনে শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ডকে চাকরিবিধি, ১৯৭৯-এর নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের শামিল উল্লেখ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তবে ওই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার এক বছর এক মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে গত ৩১ আগস্ট দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পর গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শিক্ষক রুবেলকে সতর্ক করা হয় বলে জানান কমিটির সভাপতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক রুবেল বিভিন্নভাবে ছাত্রীদের হয়রানি করেন। তাদের অভিযোগ, গত বছর ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ করে তা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। গত বছর আমার বিরুদ্ধে কী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, এটা সত্য। তবে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছিল। আমরা ওই ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শিক্ষক রুবেল ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে শেষবারের মতো ক্ষমা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আবার কোনো অভিযোগ পেলে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চাকরিবিধি, ১৯৭৯ অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।