ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই গ্রাম পুলিশের নাম ফরহাদ। তিনি উপজেলার আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের বেজিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার (৮ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে বেজিডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইসলামকে (১১) বাড়ির কাছ থেকে ধরে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইসলাম সৌদি প্রবাসী ইমরুলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে ইসলামকে ডেকে নিয়ে যান ফরহাদ মোল্লা । পরে সাবেক জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিউটি বেগমের বাড়ির পাশের বারাশিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার মুখের ভেতর লাঠি ঢুকিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা।
একটি শিশু দূর থেকে ঘটনাটি দেখে ইসলামের মাকে খবর দেয়। পরে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহত অবস্থায় ইসলামকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ইসলামের মা আরভী বেগম বলেন, ফরহাদ তাঁর প্রতিবেশী এবং গ্রাম পুলিশে কর্মরত। বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে টাকা দাবি করতেন। এর আগে দুই দফায় তাঁর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এবার এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিরুজ বলেন, ফরহাদের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। সে আমাদের পরিষদের কাওকে মানে না।
সাইদ মোল্লা দফাদার বলেব,সে আইনের লোক হয়ে এ কাজ করতে পারে না। এর আগে ও অপরাধে কারনে শোকজ করা হয়েছিল। পরে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে সতর্ক করা হয়।
বেজিডাঙ্গা গ্রাম পুলিশের দায়িত্বরত ফরহাদ মোল্লা বলেন,আমার পিয়াজ ও মরিচের ফসলি জমি ভাবীর (আরবি) গরুতে বার বার নষ্ট করায় বেঁধে রাখি এবং তাদের বলেছি বিশ ত্রিশ হাজার টাকার ফসল নষ্ট করে ফেলেছে। তার ছোট ছেলে ইসলাম চুরি করে গরু নিতে যায়।দেখে ফেললে সে দৌড়ে চলে যায়।ঐ সময় আমি জিগা গাছের একটা ডাল ছুড়ে মারি ওর পিঠে গিয়ে লাগে।অন্য সকল অভিযোগ মিথ্যা,ঘটনা তদন্ত করে দেখেন।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসনাত খান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।