নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবেশগত ছাড়পত্রের নামে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ, অভিযুক্ত শহীদ হোসাইন আত্মগোপনে

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
41.5kভিজিটর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মোঃ শহীদ হোসাইন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার বাসিন্দা মোঃ শহীদ হোসাইন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইটভাটা ও রাইস মিলের মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি এ পর্যন্ত জেলার ৫টি হাসপাতাল, ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ৭টি ইটভাটা এবং ২টি অটোমেটিক রাইস মিলের পরিবেশগত ছাড়পত্র ও হাইকোর্টের রিট অর্ডার করে দেওয়ার কথা বলে সর্বমোট ২১,০০,০০০ টাকা গ্রহণ করেছেন। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র কিংবা আবেদন রিসিভ কপিও সরবরাহ করেননি।

প্রতিষ্ঠান মালিকরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে নিজের প্রভাবশালী অবস্থান প্রচার করতেন। সরল বিশ্বাসে অনেকেই তার কথায় আস্থা রাখেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ রাখিবুল হাসান বলেন, অভিযুক্ত শহীদ হোসাইনের সঙ্গে তার পরিচয় ২০১৭ সালে নরসিংদীতে। স্বল্প পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে একসময় ব্যক্তিগত কাজে সহায়তার সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভুয়া ছাড়পত্র প্রদান এবং তার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে আশ্রয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।
পরিদর্শক রাখিবুল হাসান বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র সঠিক থাকলে বিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যেই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।” ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র পেতে দপ্তর সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল কারখানা মালিক ও সরকারি দপ্তরকে এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x