


বারির সাবেক মহাপরিচালক ডঃ মোঃ আব্দুল্লাহ ইউসুফ আকন্দ, ডিজি হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পরে তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার স্বৈরশাসন কৃষি গবেষণা চালু করেছিলেন এবং একক ক্ষমতাবলে নিয়ম নীতি না মেনে প্রতিষ্ঠিত আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কৃষি গবেষণাকে দিনকে দিন ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি অনেক জুনিয়রকে সিনিয়র পদে বসিয়ে সিনিয়রদের অন্যত্র বদলি করেছেন।
BARI তে বিদ্যমান আইন না মানার একটি বড় ও নিকৃষ্টতম উদাহরণ হল “মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা” পদে পদোন্নতিতে প্রতিষ্ঠিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা পরিবর্তন করে তার পছন্দের লোককে উপরের দিকে জ্যেষ্ঠতা দিয়ে নতুন জ্যেষ্ঠতা তালিকা গোপনে তৈরি করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (BARC) প্রেরণ করে ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এর কাছে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে পদোন্নতি দিয়েছেন।
গত ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি বোর্ডের সভায় BARI এর জ্যেষ্ঠতা তালিকা নিয়ে আপত্তি তুললে তিনি অশালীনভাবে রিএক্ট করেন এবং বলেন “আমরা যেটা করেছি সেটাই ফাইনাল।” অথচ ইতিপূর্বে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদের চূড়ান্ত জ্যেষ্ঠতা তালিকা পূর্বের ডিজি বিএআরসি তে প্রেরণ করলেও, তিনি নিজের মনগড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা তৈরি করে বিএআরসিতে প্রেরণ করেন। ড. মোঃ হাবিবুর রহমান ০৮/০৮/২০১৯ তারিখে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান।
এরপর ২০১৯ সালে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের একটি জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ করা হয় । যেখানে মোঃ হাবিবুর রহমান জ্যেষ্ঠতা তালিকায় ড. মোঃ মশিউর রহমান, ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, ড. মোঃ দাউদ হোসেন, ড. মোহা. মনিরুজ্জামান, ড. একেএম কামরুজ্জামান, ড. মোঃ আল আমিন হোসেন, ড. মু: মাহবুব আলম পাটোয়ারী, ড. রফিকুল ইসলাম, ড. ফারজানা নাসরিন খান ও ডঃ মোঃ আব্দুল গোফফার এর নিচে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় স্থান পান । পরবর্তীতে ২৯ শে এপ্রিল ২০১৯ তারিখে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপরে ডঃ মোঃ হাবিবুর রহমানকে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।
যার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। একটি জ্যেষ্ঠতা তালিকার সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের মতামত নেয়া অবশ্যম্ভাবী এবং সেটা বোর্ড অফ ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। এখানে ডিজি আব্দুল্লাহ ইউসুফ আকন্দ জ্যেষ্ঠতা তালিকা লঙ্ঘন করেছেন। তিনি একতরফা একক সিদ্ধান্তে তার দপ্তরের কর্মকর্তাদের জোর করে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছেন।
ডঃ মোঃ হাবিবুর রহমান এর ব্যক্তিগত অযোগ্যতার (ACR) কারণে ২৯ শে এপ্রিল ২০১৯ সালে পদোন্নতি পান নাই। যতদূর জানা যায় ওই সময়ে জনাব মোঃ হাবিবুর রহমানের এসিআর এ সমস্যা থাকায় তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বতঃসিদ্ধ নীতি হলো যেদিন যে পদে যোগদান করবেন সেই দিন থেকে উক্ত পদে তার জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। ডিজি জনাব ইউসুফ একজন প্রতিহিংসাপরায়ণ লোক ছিলেন। তার সাথে অতীতের সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে তিনি মো: মোশারফ মোল্লাকে বায়োটেকনোলজি ডিভিশনে CSO চার্জ না দিয়ে একজন জুনিয়র অফিসারকে বসিয়েছেন।
বারির সাবেক মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রফিকুল ইসলাম ( BARI 0242) বলেন ইউসুফ আকন্দ আমার কাছে ২ লক্ষ টাকার আইফোন দাবী করেন প্রমোশন এবং ভালো পোস্টিং এর জন্য। আমি দিতে নারাজ হওয়ায় জৈষ্ঠতা লঘ্নন করে আমার জুনিয়র হাবিবুর রহমান কে পদোন্নতি দেন। সংশ্লিষ্ট সকলের দাবি ইউসুফ আকন্দের লেনদেনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি বানিজ্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় প্রধান ড. রওশন আরা বলেন, তৎতকালীন সময়ে ২০১৬ সালে পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন উইং এর পরিচালক ড. শাসমুল আলম এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের Multi Gas Analyser মেশিন কেনার প্রয়োজনীয়তা আমাকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তদবীর করে। পরবর্তীতে তাদের নির্ধারিত ঠিকাদারের মাধ্যমে ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকার মেশিন প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেন।
এরপর তারা ঠিকাদারের নিকট উচ্চমাত্রায় অবৈধ টাকা দাবী করলে ঠিকাদার সেটি দিতে অস্বীকার করলে তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবস্থান করেন। ঠিকাদোরের নিকট টাকা চাওয়ার অডিও ক্লিপ তখন ভাইরাল হয়ে যায়। ঠিকাদার তখন বেশকিছু যন্ত্রাংশ সরবরাহ না করেই বিল নিয়ে চলে যান, ফলে মেশিনটি আজও সক্রিয় করা সম্ভব হয়নি। একারনে ঠিকাদারের নিরাপত্তা জামানত ফেরত প্রদান করা হয় নাই।
মেশিনটি আজও পর্যন্ত অকেজো অবস্থায় পরে আছে। এসকল বিষয় নিয়ে তৎকালীন সময়ে আমি ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের কে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করি। ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের বর্তমানে বিএআরআই এর পরিচালক, পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন (রুটিন দায়িত্ব)। ছাত্রাবস্থায় তিনি বাসদের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯৫ সালে বিএআরআইতে যোগদান করেন। বিএআরআইতে এসে তিনি ছাত্র লীগের অনুসারী হিসাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন। তিনি তার ব্যাচে জেলা কোটায় নিয়োগ লাভ করলেও ২০১২ সালে তার জ্যেষ্ঠত্ব পরিবর্তন করে তার ব্যাচে মেধা কোটায় নিয়োগ প্রাপ্তদের উপরে জ্যেষ্ঠত্বা লাভ করেন।
এটি অনিয়ম এবং দুঃখজনক। তিনি গত আওয়ামীলীগ আমলে এতটাই প্রভাশালী ছিলেন যে তার চেয়ে তিন চার ব্যাচের সিনিয়ারদের ডিঙ্গিয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ বাগিয়ে নেন।
ড. জিন্নাত করিম, পিএসও পদোন্নতি পেয়েছেন, যিনি গত ৩ বছর অফিস করেন না, নেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর। তার অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হলে কমিটি তার শাস্তির জন্য সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ড. মুন্সী রাশেদ, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্তকর্তা কে আহ্বায়ক এবং ড. মোঃ মশিউর রহমান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করা হয়। পূর্বের কমিটির সেই সুপারিশ উপেক্ষা করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি করার নামে জিন্নাত করিম কে পজিটিভ করা হয়, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ড. মোঃ হায়দার হোসেন বলেন ড. জিন্নাত করিম কে আলাদা হাজিরা খাতায় হাজিরা নেওয়া হয়েছে আমার সময়কাল ১৭ জুলাই/২০২৫ থেকে ৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে। এই প্রক্রিয়া কি আইনসিদ্ধ কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেন নাই। তিনি বলেন মানবিক কারনে অনেক কিছুই করতে হয়। ড. মো. মনিরুল ইসলাম (BARI- 0325), মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, গাজীপুর এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ড. জিন্নাত করিমের হাজিরা দেওয়া হয় নাই তখন, তার বেতন ও বন্ধ ছিলো তখন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত ড. জিন্নাত করিম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেননি। সংশ্লিষ্ট সকলে বিষয়টি পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।