নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

ব্রিতে কাজ না করেই ৬৫ লক্ষ টাকা হরিলুট! মূলহোতা ড.রফিক – মুকুল সিন্ডিকেট ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬
5.9kভিজিটর

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ( ব্রি) এর আঞ্চলিক কার্যালয় সাতক্ষীরায় মাটি ভরাট (Land Improvement /Development Works for BRRI Regional Station at Satkhira) কাজের জন্য Yusra Construction Ltd নামক প্রতিষ্ঠানকে বিগত ১০/১১/২০২৪ ইং তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু উক্ত কাজ করা না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিকে কাজের বিল ৬৫ লক্ষ টাকার চুড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়। বিল প্রদানের পূর্বে প্রকল্পের পরিচালক ড. আব্দুল কাদেরসহ ব্রি’র সকল অপকর্মের সিন্ডকেট ড. রফিক- মুকুল গংসহ সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধানকে আশ্বস্ত করেছে যে, জুন ক্লোজিং এর টাকাটা খরচ দেখাতে হবে তাই চেক দিতে হবে পরবর্তীতে মাটি ভরাট করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চেক প্রদান করা হবে।

কিন্তু ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করলে আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান ড. মামুনুর রশীদ বিষয়টি ব্রি’র মাসিক সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেন। প্রকল্প পরিচালক সভাকে অবহিত করেন যে, প্রতিষ্ঠানটিকে ইতোমধ্যে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কাজ না করা সত্ত্বেও কি ভাবে বিল পরিশোধ করা হয়েছে এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। এই পর্যায়ে আরএফএস বিভাগের প্রধান ড. মো. ইব্রাহীম, সিএসও বিষয়টি সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখের জন্য অনুরোধ করলে তা উপেক্ষিত হয়।

বিষয়টি নিয়ে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করে তার প্রচন্ড হতাশা ব্যক্ত করেন এবং আশংকা ব্যক্ত করেন যে, তার নিকট থেকে ছাড়পত্র নিয়ে এখন মাটি ভরাট করা হচ্ছে না। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চুড়ান্ত বিলও প্রদান করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়টি সম্পূর্ন ভাবেই তার সাথে সংশ্লিষ্টগণের প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করেন যে, এই অর্থ মহাপরিচালক পদায়নে ব্যবহার হয়েছে এবং এর সিংহভাগ অর্থ ব্রি’র বিদ্যমান ড. রফিক – মুকুল সিন্ডিকেটের কল্যাণেই ব্যবহার হয়েছে।
অপরপক্ষে ব্রি’র প্রধান কার্যালয়ের সেন্ট্র‍াল
ল্যাব ভবনে টাইলস বসানোর কাজে ব্যপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্পেসিফিকশনের তুলনায় নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার করে ১৪ কোটি টাকার দূর্নীতি করা হয়েছে যার সিংহভাগ টাকা ডিজি নিয়োগে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বিগত ২৪ আগষ্ট ২০২৬ তারিখের সমন্বয় সভায় আলোচিত হয় এবং খতিয়ে দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া ব্রি প্রবিধানমালায় পদের কিংবা নিয়োগযোগ্যতা না থাকা সত্বেও সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে কৃষি মন্ত্রনালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের তদন্ত কমিটির দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। অথচ এই কাওছার আহমেদ বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে নিয়মিত উপ-পরিচালককে অকার্যকর করে ব্রি’র সকল নিয়োগ, পদন্নোতি, প্রকিউরমেন্ট ও টেন্ডারে দুর্নীতিতে সহযোগিতার প্রমানিত অভিযোগ রয়েছে।

আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে তার বিরুদ্ধে ড. মো: ইব্রাহীম, সিএসও কে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন। কাওছার এখন ডিজির অনৈতিক টাকা সংগ্রহের মুল হাতিয়ার। ব্র‍ি প্রবিধানমালায় তার পদ না থাকা স্বত্বেও ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নেন বলে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। তিনি অন্তত ৪ থেকে ৫ টি ফ্লাট ক্র‍য় করেছেন নামে বেনামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী- কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ ক্ষোভ ব্যাক্ত করে বলেন যে ইতোমধ্যে উল্লেখিত সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পূনর্বাসনের বিষয়ে পত্র পত্রিকায় ব্যপক লেখা লেখি হলেও কোন প্রতিকার নেই। মন্ত্রণালয় সহ দায়িত্বশীলগণ একপ্রকার নির্বিকার!! কঠোর ভাবে বিষয় গুলি নিয়ন্ত্রণ না করা হলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির সন্মুখিন হবে।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x