বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ান।
গত প্রায় ১২ বছর ধরে একই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাববলয় গড়ে ওঠে, যার সুযোগে বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। গত ২৫ মে একটি অনলাইন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, প্রধান কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া মনিরুল ইসলাম ও কাবিল সরদার নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত বেতন প্রদান করা হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংক, এনএস রোড শাখা, কুষ্টিয়ার ব্যবস্থাপক বরাবর প্রতি মাসের বেতন বিল বাবদ মোট ২৫,০০০ টাকা দুই ব্যক্তির স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে প্রেরণের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—
মো. মনিরুল ইসলাম — ১২,৫০০ টাকা
মো. কাবিল সরদার — ১২,৫০০ টাকা
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ান স্বাক্ষরিত প্রতি মাসে এমন চিঠি প্রেরণ করা হয়ে থাকে মর্মে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন, নিয়োগপত্র বা জনবল কাঠামোর বৈধতা সম্পর্কে কোনো নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে এভাবে মাসের পর মাস সরকারি অর্থ ব্যয় করা হলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়াও, কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ডরমিটরি ও আপ্যায়ন সুবিধা একক সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বিভিন্ন সময় সরকারি কাজে প্রধান কার্যালয় বা অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অতিথিদের আপ্যায়নের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বর্তমান প্রধান নিজে ডরমিটরি সুবিধা ব্যবহার না করায় অন্যদেরও এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কার্যালয় প্রধানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধারাবাহিক প্রতিবেদন চলবে….