


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম ঘিরে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, পদোন্নতিতে বিধিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত, নিয়োগে অনিয়ম এবং বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং গবেষণার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, বিল-ভাউচার, কার্যাদেশ, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
ব্রির সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাটি ভরাট প্রকল্প—‘Land Improvement / Development Works for BRRI Regional Station at Satkhira’—ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন না করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর ‘Yusra Construction Ltd.’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাটি ভরাটের কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়। এমনকি প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, বিল পরিশোধের আগে প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল কাদের এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, জুন ক্লোজিংয়ের বাজেট সমন্বয়ের স্বার্থে আপাতত বিলের চেক প্রস্তুত বা প্রদর্শন করতে হবে; পরবর্তী সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করলে চেক হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে কাজ সম্পন্ন না হলেও অর্থ পরিশোধের বিষয়টি সামনে আসে।
এ নিয়ে প্রায় তিন মাস পার হওয়ার পরও কাজের অগ্রগতি না থাকায় সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মামুনুর রশীদ ব্রির মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি ঘটনাটিকে প্রতারণামূলক হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সভায় প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল কাদের এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে সূত্রগুলোর দাবি।
পরবর্তীতে আরএফএস বিভাগের প্রধান ও সিএসও ড. মো. ইব্রাহীম বিষয়টি সভার কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী, প্রকল্পের পরিমাপপত্র, কাজ সম্পন্নের সনদ, বিল-ভাউচার এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কাজ না করেই পরিশোধ করা অর্থের একটি বড় অংশ মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ বা পদায়ন-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা এবং কথিত ‘ড. রফিক–মুকুল’ গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে অর্থের ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ব্রির প্রধান কার্যালয়ের সেন্ট্রাল ল্যাব ভবনে টাইলস স্থাপনের কাজ নিয়েও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ও চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ এবং কাজের প্রকৃত মানের সঙ্গে বিলের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রকৃত ব্যয়, ব্যবহৃত টাইলসের মান, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কার্যসম্পাদনের মান যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে দরপত্রের শর্ত, অনুমোদিত স্পেসিফিকেশন, সরবরাহকারীর চালান, কার্যসম্পাদন সনদ, পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পের অর্থের একটি অংশ ডিজি নিয়োগ ও পদায়ন-সংশ্লিষ্ট গোপন লেনদেনে ব্যবহৃত হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে অভিযোগের আর্থিক ব্যাপ্তি ও অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সভার কার্যবিবরণী, তদন্তের সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। প্রায় ১৪ কোটি টাকার অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলে তা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।
ব্রির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পদোন্নতি, নিয়োগ এবং আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে কাওছার আহমেদের পদোন্নতি ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখিত কাওছার আহমেদকে প্রবিধানমালায় প্রয়োজনীয় শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও ‘সিনিয়র সহকারী পরিচালক’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে আরও দাবি করা হয়েছে, এ পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।
এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন, অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো, শূন্য পদের হিসাব এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা নিয়োগ ও পদোন্নতির বিধিবিধান এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
এ ছাড়া বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ, ক্রয়প্রক্রিয়া ও দরপত্র-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মে সহযোগিতা এবং অবৈধ উপায়ে চার থেকে পাঁচটি ফ্ল্যাট অর্জনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সম্পদের বৈধ উৎস, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি যাচাই ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
আরও প্রশ্ন উঠেছে, বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য ড. মো. ইব্রাহীম, সিএসও-কে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তদন্তাধীন বলে দাবি করা একজন কর্মকর্তার প্রশাসনিক ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না। অভিযোগ রয়েছে, কাওছার আহমেদকে অর্থ সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি ও প্রশাসনের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
গবেষণার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহিরাগতদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আন্দোলন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নির্মাণকাজ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন।
অভিযোগে ‘টিন শেড পশ্চিম বাড়ি’ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহিদ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি শ্রমিক ইউনুসের ছেলে বলে পরিচিত। সূত্রগুলোর দাবি, ডিজির দায়িত্ব গ্রহণের দিন আন্দোলনসহ সাম্প্রতিক কিছু অস্থিতিশীল ঘটনায় তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর পেছনে হালিম মোল্লার আশ্রয় এবং ড. মুকুলের নির্দেশনা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্রিতে নির্মাণাধীন দুটি বড় ভবনের রড, সিমেন্ট ও বালু সরবরাহের ক্ষেত্রে জাহিদ ও তাঁর গোষ্ঠী একক আধিপত্য বিস্তার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দরপত্র, সরবরাহ আদেশ, ঠিকাদারি চুক্তি, বিল-ভাউচার এবং সরবরাহকারীদের পরিচয় পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, এআরডি ডিভিশনে জাহিদের ঘনিষ্ঠ নাবিল এবং শ্রমিক হেলালের ছেলে মুসাকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব ও দলীয় শক্তি সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে ড. মুকুল ও ডিজি রফিকের ভূমিকা রয়েছে।
তবে নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, নির্বাচনী কমিটির কার্যবিবরণী, নিয়োগ অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা আবশ্যক। একইভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ বা কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে পরিচিতি থাকাই অপরাধের প্রমাণ নয়; অভিযোগের প্রতিটি অংশ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে হবে।
ব্রির কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের মতে, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগে বিতর্ক এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ধানের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে ব্রির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক দুর্বলতা থেকে গেলে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নের মান এবং বিজ্ঞানীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ উত্থাপনকারীদের নিরাপত্তা, তদন্তের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৭. নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি
ব্রিকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেবল ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো সরকারি অর্থের ব্যবহার, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো যেতে পারে—
১. সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাটি ভরাট প্রকল্পের কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ, বাস্তব অগ্রগতি, চূড়ান্ত বিল ও অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই।
২. সেন্ট্রাল ল্যাব ভবনের টাইলস প্রকল্পের স্পেসিফিকেশন, দরপত্র, সরবরাহকৃত সামগ্রীর মান, কার্যসম্পাদন সনদ এবং ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা।
৩. পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রবিধানমালা, অনুমোদিত পদ, যোগ্যতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা।
৪. নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে স্বার্থের সংঘাত, একচেটিয়া প্রভাব বা অনিয়মের অভিযোগ যাচাই।
৫. তদন্তাধীন অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৬. তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ব্রিকে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থের অপচয়, কাজ না করে বিল উত্তোলন, নিয়োগে অনিয়ম কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের অভিযোগ সত্য হলে তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের আড়ালে চাপা না দিয়ে নথিপত্র, আর্থিক হিসাব, প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ও ন্যায্য অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।
দেশের খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে ব্রিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন এবং গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সরকারি অর্থ ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।