শিরোনাম:
নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত ঝাউগড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি’র পুস্পস্তবক অর্পণ দেশে সব ধর্মের মানুষের জন্য শান্তির জনপদ করেছিলেন জাতির জনক: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নওগাঁয় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি। রূপগঞ্জে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকপ্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম কারাগারে হাজতির মৃত্যু; জেল সুপার-ওসিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিএমপি ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ লোকমান আজাদ’গ্রেফতার চট্টগ্রামে এম পি মহিউদ্দিন বাচ্চুর জামিন মঞ্জুর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ এ মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে

চীনের আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে রংপুরে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন।

আয়েশা রংপুর
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৬ মে, ২০২৩
36.0kভিজিটর

তিস্তা প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বাংলাদেশে চীনের আগ্রাসন বন্ধসহ নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও উইঘুর মুসলিম নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আজ ৬ মে ২০২৩ শনিবার সকাল ১১টায় রংপুর শহরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, রংপুর মহানগর, জেলা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।সংগঠনের রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কাওসারের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মাহমুদুর রহমান অভি। আরোও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এমরান চৌধুরী আকাশ, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাসান হাবিব সৌরভ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সজীব হোসেনসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচীতে রংপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কাওসার বলেন, “একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাষ্ট্র চীন বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে একের পর এক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চায়না কোম্পানীগুলো বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ধীরগতি, দুর্নীতি, অনিয়ম ও শ্রমিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও আর্থিক ব্যয় বাড়িয়ে দিয়ে চায়না কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীন তিস্তা প্রকল্পের নামে ঋণের জালে ফেলে এবার বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে লুটপাটের পর চীন এবার উত্তরবঙ্গের মানুষদের রক্ত চুষে খাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। উন্নয়নের নামে কৃষিজমি, নদীর অববাহিকা ও পরিবেশ ধ্বংসের মাধ্যমে জনগণকে জিম্মি করে চীন নিজেদের অসৎ এজেণ্ডা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করছে। তিস্তা প্রকল্পের বিনিয়োগের নামে তিস্তা নদীর আশে পাশে অঘোষিত সামরিক ঘাঁটি বানিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। অবিলম্বে চীনের অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বন্ধ করে পদ্মা সেতুর মতো দেশীয় অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে এডিবি, জাইকা, আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। চীনের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, রংপুর মহানগর ও জেলা শাখা।”

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, “একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী অপশক্তি চীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল। অবৈধ সামরিক শাসক খুনি জিয়া কর্তৃক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বিএনপি-জামাতের শাসনামলে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস ১৫ আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের উপহার পাঠিয়েছিল।

চীন কখনোই বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। সম্প্রতি চীন তিস্তা প্রকল্পের নামে অসম শর্তে ঋণের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানোর ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হয়েছে। ঢাকা টু কুড়িগ্রাম ছয় লেনের মহাসড়ক প্রকল্পে চীনা কোম্পানির ধীরগতি কৌশলের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যা ও নির্যাতনে জড়িত চায়না কোম্পানির আজও পর্যন্ত কোন বিচার হয়নি। প্রায় দুই দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী রাজাপক্ষে পরিবারকে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হতো।

যখন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষে ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন, তখন চীনের অর্থায়নে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে তোলা হয় দেশটিতে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হাম্বানটোটার গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। বিতর্কিত ঋণের অংশ হিসেবে ৯৯ বছরের চুক্তির অধীনে একটি চীনা রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে সমুদ্রবন্দরটি ইজারা দেওয়া হয়েছিল। চীন অসম ঋণের জালে ফেলে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

এখন তিস্তা প্রকল্পের নামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে চীন। দেশবিরোধী অপশক্তিদের সহযোগিতা নিয়ে চীন একের পর এক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই চীনের দোসরদের মুখোশ উন্মোচন করবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বাংলাদেশে কর্মরত চীনা কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত শ্রমিক নির্যাতন, বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই। উত্তরায় গার্ডার পড়ে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হওয়ার পরেও চীনা কোম্পানীর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে পরিকল্পিতভাবে ধীরগতি দেখিয়ে বাংলাদেশের জনগণের কষ্টার্জিত হাজার হাজার কোটি লুটপাট করে চীনে নিয়ে যাচ্ছে চায়না কোম্পানিগুলো। এদেরকে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। উন্নয়ন কাজের নামে আগ্রাসন ও শ্রমিক নির্যাতন কখনোই মেনে নিবে না এদেশের জনগণ।”

সংগঠনের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আহসান হাসান হাবিব সৌরভ বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রামের পাশাপাশ সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সবসময় মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। বিশ্বের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।

সমগ্র পৃথিবী একটি পরিবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় প্রত্যেকটি দেশের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সম্প্রতি চীন সরকারের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডে আমরা মারাত্নকভাবে উদ্বিগ্ন। ১৯৩৩ সালে স্বল্প সময়ের জন্য পূর্ব তুর্কিস্তান নামে স্বাধীন দেশ পেয়েছিল উইঘুররা। পরে তা চীন দখল করে নিয়ে স্বাধীনতাকামী উইঘুরদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন শুরু করে যা এখনো চলমান। জাতিসংঘের দাবি অনুযায়ী, চীনের বন্দিশালায় বর্তমানে নারীসহ ১০ লাখ উইঘুর মুসলমান আটক আছেন।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২২, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x