শিরোনাম:
তৃণমুল বিএনপির রাজনীতি সুসংগঠিত করবে জাসাস : খালেদ হোসেন পরাগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫’শ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ মধুখালীতে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার মহোৎসব নওগাঁয় পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের ত্রাণ বিতরণ রামপালে মধ্যযুগকেও হার মানিয়ে ১৬ বছর অবৈধ সংসার,১৩ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের অভিযোগ কালিগঞ্জে প্রতিবেশির গাছ কেটে জোড় পূর্বক রাস্তা তৈরীর অভিযোগ দাগনভূঞায় সংসদ সদস্য লেঃ জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’র পক্ষ থেকে তাহিরপুরে পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার বিতরণ অতিরিক্ত খাজনা আদায় করায় রাণীনগরের আবাদপুকুর হাট ইজারাদারকে জরিমানা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ধর্ষণ নাকি ষড়যন্ত্র, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের

সাইয়েদার রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ কিশোরগঞ্জ
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

বিয়ের বয়স মাত্র চার মাস। বিয়ে করে সবে মাত্রই সংসার জীবন শুরু করেছিল নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর সুরিপাড়া গ্রামের আনিসুল হকের মেয়ে আনিচা ও তারই খালাতো ভাই কালিকাপুর মাঝাপাড়া গ্রামের জোবেদ আলীর ছেলে আলী হোসেনের সাথে। বিবাহ হল একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি, যার মাধ্যমে দু’জন (নর-নারী) মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়।বিবাহের মাঝে প্রতিজ্ঞা করা হয় সুখে-দুঃখে আমৃত্যু একসাথে থাকার এবং তার সাথে সাথে দাম্প্যত্য জীবনে তাদের পথচলা শুরু হয় স্বামী-স্ত্রী হিসাবে।যার মাধ্যমে উভয়েই প্রতিজ্ঞা করে একের সুখে সুখী,দুঃখে দুঃখী হবার।

কিন্তু সুখের সংসার করা হলো না আনিচা আলিহোসেন দম্পতির। বিয়ের চার মাস যেতে না যেতেই শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় প্রাথমিক দিকে। মেয়ের পরিবার তাদের মেয়েকে খুঁজে পেতে শশুর শাশুড়িকে চাপ প্রয়োগ করে তাদের মেয়েকে খুঁজে পেতে। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে বলে জানা যায়।
কিন্তু নিখোঁজের পরে পুনরায় কিশোরীকে তাদের মেয়েকে কিশোরী দাবি করে গণধর্ষণের অভিযোগে চারজনের নামে মামলা হয়েছে। এমনকি মেয়ের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করে মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়ির উপর।

এ মামলায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাসানো হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত মানিক ও জীবনের পরিবার। প্রশাসনের কাছে দাবি ধর্ষণ না ষড়যন্ত্র সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা উদঘাটন।

স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, অভিযুক্তদের তিনজনই বিবাহিত। তার মধ্যে একই এলাকার জীবন ও মানিক ট্রলিচালক এবং রশিদুল তার স্ত্রী সায়তারাকে নিয়ে কালিকাপুর দাখিল মাদরাসার সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরনে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর সুরিপাড়া গ্রামের ওই তরুণীকে পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত ( ২৩ এপ্রিল) খালার বাড়িতে ইফতার শেষে ফেরার পথে একটি দোকানের সামনে থেকে স্থানীয় যুবক জীবন, মানিক ও রশিদুল তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে চড়াইখোলা এলাকায় প্রথমে ভুট্টাক্ষেতে পালাক্রমে ধর্ষণের পর একটি গভীর নলকূপের ঘরে ৫ দিন আটকে রেখে আবারও পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। তারপর ২৭ এপ্রিল আরেক জনের কাছে টাকার বিনিময়ে তুলে দেয় অভিযুক্তরা। মেয়ে নিখোজের পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছিলেন তরুণীর বাবা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেন, মেয়েটি নিখোজ হওয়ার পর মেয়ের বাবা থানায় একটি জিডি করে। তারপরে বাড়িওয়ালা মাহাবুল ও ইউপি সদস্য খায়রুলের সহযোগিতায় রংপুর থেকে গত রোববার ৮ মে মেয়ে টি কে তাদের নিজ জিম্মায় চেয়ারম্যান বাড়িতে নিয়ে আসে। ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সালিষের মধ্যেমে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে মেয়ের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে সময় মেয়ে এবং তার পরিবার ধর্ষণের বিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি। পবর্তীতে মেয়ের বাবা কেন থানায় মামলা করল তা আমরা বলতে পাব না। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দারি করে স্থানীয়রা।

এ ঘটনার বিষয়টি জানতে কিশোরী ও পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলে কেউকে পাওয়া যায়নি। জানা যায়, মেয়েটি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাস্পাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসিদের কাছে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেশিরা অনেক কথা বলতে রাজি হয় নাই।

নাম প্রকাশের অনাইচ্ছুক অনেক জনে বলে, ২৩ এপ্রিল যে ঘটনা টি ঘটেছে আমরা কিছু জানি বা শুনি নাই। যখন টিভিতে নিউজ দেখছি তখন আমরা শুনছি। এর আগে আমরা ধর্ষণের বিষয় কিছু জানি না শুনি নাই। তবে মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল তারই খালাতো ভাইয়ের সাথে প্রায় ৪ মাস আগে।

মানিক হোসেনের মা রানী বেগম ছেলেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন,

আমার ছেলে কাজ করি খায়। স্কুলে এক সাথে পরছিল। হয়ত পরিচয় ছিল। ছেলের বিয়েও হয়েছে। ঐ মেয়েটি অন্য স্থানে বিয়ে হয়েছিল। কয়দিন আগে শুনি মেয়েটি নিখোজ। কিন্তু তখন তো আমার ছেলে বাড়িতে ছিল। সবাই দেখছে। পরে মেম্বার চেয়ারম্যান কোথায় থাকি মেয়েটা আনি ইউনিয়ন পরিষদে সালিশের মাধ্যমে তার বাবার কাছে তুলে দিলো। সালিশে মানিক ও জীবন জরিত নেই বলে জানিয়েছে মেয়েটি। আমার ছেলেকে ফাসানো হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। একই দাবি করে অপর আসামি স্বজনদেন। তার পরিবার প্রশাসনের কাছে দাবি করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনের অনুরোধ জানান।

মেয়েটির শ্বশুর বাড়ি সংলগ্ন হাপুর দোকান ও মেয়েটির শ্বশুরবাড়ি সংলগ্ন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মেয়েটি বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেছিল প্রায় ৪ মাস আগে। রমজান মাসে হঠাৎ একদিন মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার খবর শুনি। মেয়েটিকে খুঁজে পেতে মেয়েটির বাবা-মা মেয়েটির শ্বশুর শাশুড়ির উপর মেয়েটিকে খুঁজে পেতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন আমরা মেয়েটিকে ধর্ষণের অভিযোগে টিভিতে একটা সংবাদ দেখেছি। তবে এর আগে ধর্ষন বা অপহরণের অভিযোগ আমরা শুনি নাই।

স্থানীয় বাদিন্দা মেসবাউল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদের সালিশে ওই কিশোরী একা ঢাকায় গেছিল, কোন ছেলে সাথে ছিলনা বলেছে আমরা সবাই শুনেছি।

তারিখ হোসেন জানান, মেয়েটির যেদিন তার খালাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয় সেদিন আমি বাড়িতে ছিলাম। বিয়ের দিন মেয়ের বাড়িতে বরযাত্রী যাইতে দেখেছি। বিয়ের পর আমি ঢাকায় ছিলাম। ঈদের দুই দিন পর বাসায় এসে জানতে পারি আলী হোসেনের স্ত্রী ( খালাতো বোন) অন্য কারো সাথে পালিয়ে গেছে। তারপর টিভিতে ধর্ষণের অভিযোগে সংবাদ দেখছি।

আনোয়ার বলেন, গত ২৩ এপ্রিল সারাদিন আমার সাথে মানিক ও জীবন ট্রলিতে মাটির কাজ করছে এবং রাত ১১ টা পর্যন্ত টাকার জন্য আমার সাথে ছিল বাজারে। তারা কিভাবে ধর্ষণ করে। একই কথা বলে ট্রলির মালিক আহাদ আলী।

ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলাম বলেন, ওই মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার পর তার বাবা থানায় অভিযোগ করে। থানার এসআই আমাকে ডেকে মেয়েটাকে উদ্ধারের বিষয় কথা বলে।

পরে মেয়েটি নিজেই আমাকে কল করে বলে আমি ঢাকায় আছি। তবে পরে বলে আমি রংপুর শুটিবাড়িতে আছি। সেখান থেকে মাহাবুল আমি ও আরো কয়েকজন মিলে তাকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে আসি। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মানিক ও জীবনকে নির্দোষ বলে দাবি করেন ধর্ষণের অভিযোগকারী মেয়ে। কিশোরগঞ্জের সাদুরারপুরের এক ছেলেকে বিয়ে করেন বলে জানান। ইউনিয়ন পরিষদের সালিষের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ধর্ষনের কোন অভিযোগ তাদের ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে কেন তারা ধর্ষণের মামলা করলো সেটা আমরা জানি না।

কালিকাপুর পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন আগে মেয়েটা নিখোজ হয়। থানায় অভিযোগও ছিল। পরবর্তীতে মেয়েটাকে রংপুরে পাওয়া যায়। ইউপি মেম্বারসহ কয়কজন মিলে তাকে উদ্ধার করে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে আমরা পরিষদে সালিশ করে, কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ অনুমতি ক্রমে মেয়ের বাবার হাতে তুলে দেই। মেয়েটি বলছিল একা ঢাকায় গিয়েছিল। ধর্ষণের বিষয়ে কোন কিছুই অভিযোগ মেয়েটি ও তার পরিবার ছিল না। পরবর্তীতে কি ঘটনা ঘটছে আমি জানি না। না জেনে মন্তব্যও করা যাবে না, তদন্ত করলে সঠিক জিনিসটা বের হবে আশা করি।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রাজিব কুমার দাস বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। কে দোষী আর নির্দোষ তদন্ত শেষে জানানো যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২২, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x