
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জয়লাভ করে বিএনপির সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরপর দায়িত্ব নিয়েই খাল খননের কর্মসূচি শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আজ ১লা মার্চের মধ্যে প্রতি উপজেলা থেকে ২ টি করে খালের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে প্রতি উপজেলার ইউএনও’দের চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
গত ২২ ফেব্রুয়ারী ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সি. সহকারী সচিব শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা স্বাক্ষরিত এ চিঠি সূত্রে জানাযায় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং এসব খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণই হল খাল খনন ও পুনঃখননের এ কর্মসূচি। তবে এর আগেই বোয়ালখালীর বেদখল হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় বোয়ালখালী উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার উত্তর- পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী, এছাড়াও এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে রায়খালী খাল, বোয়ালখালী খাল, ছন্দরিয়া খাল, নবুয়াখালী খাল, মরদমা খাল, কর্ণালের খাল, পেতন আউলিয়া খাল, নূর মাঝির খাল, চোরাখালী খাল বেইচ্চাখালী খাল, কটাখালি, বুড়ির মার খাল, মর্দনা খাল’সহ আরো অসংখ্য খাল।
এ গুলোকে কেন্দ্র করে এক সময় এখানে ব্যাপকহারে চাষবাস, ক্ষেত-খামারের আবাদ হতো। কিন্তু কালের পরিক্রমা ও সংস্কারের অভাবে এসব খালের মধ্যে অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে অনেক আগেই । অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও দফারফায় বাকি যে ক’টা অবশিষ্ট রয়েছে সে গুলো এলাকার প্রভাবশালীরা বিভিন্ন কায়দায় দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পশ্চিম সারোয়াতলীর কাজী জসিম এক সময় খালগুলোর জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগিয়ে আমরা চাষাবাদ করতে পারতাম তা ছাড়াও এগুলো দিয়ে কম খরচে মালামাল পরিবহণ ও যাতায়তে সুবিধা হতো। কিন্তু এখন এসব খালগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় যেমন চাষাবাদ হয় না। তেমনি এগুলো দিয়ে সাম্পান আর নৌকা চালানো যায়না বিধায় সস্তায় মালামাল পরিবহণ ও যাতায়াত সম্ভব হয় না।
চরনদ্বীপ ফখিরাখালী সাইদুর রহমান বলেন,আগে আমরা চাক্তাই থেকে দোকানের মালামাল আনতাম নৌকা করে এতে আমাদের পরিবহন খরচ যেমন কম পড়তো তেমনি সড়কের উপর চাপ কমতো, খালগুলোর বেশির ভাগ বেদখল হয়ে যাওয়ায় এখন আর নৌকা দিয়ে মালামাল আনা সম্ভব হয় না। বিধায় বাধ্য হয়ে ট্রাক কিংবা পিকআপ ভ্যান করে আনতে হয়। এতে করে পরিবহণ খরচ যেমনি বেড়ে গেছে তেমনি সড়কগুলোর উপর একটা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আহল্লা করলডেঙ্গার দাশের দীঘি পাড় মমতাজ মিয়া অভিযোগ এক সময় আমরা এই খালটি দিয়ে নৌকা-সাম্পান করে শহরে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহণ করতাম। কিন্তু খালটির বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে দখল করে দোকান পাট ও ঘরবাড়ি নির্মানের কারনে সামান্য খালের মাঝখানে পিলার গেঁড়ে কমপক্ষে ১০/১২ টা পুল বা ব্রীজ নির্মাণ করাতে এখন নৌকা-সাম্পান কিছুই চালানো যায় না।
অনেকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্ঠা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
তিনি আরো জানান এলাকার খালগুলো এলাকার আবাদী জমিগুলোতে চাষাবাদ সস্তায় যাতায়াত, মালামাল পরিবহন সহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজে লাগতো, কিন্তু এগুলো এখন বেদখল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি সহ চাষবাদ ও নৌ চলাচলে বন্ধ হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। তাই তাদের দাবী খালগুলো খননের আগে উদ্ধার করা হোক।
অপরাধীর খোজে প্রতিদিন, যেকোন খবর প্রকাশের জন্য মেইল করুন- wsbnews24@gmail.com
Copyright © 2026 wsbnews24.com. All rights reserved.