নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ধারাবাহিক পর্ব ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
56.3kভিজিটর

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ ৪র্থ পর্ব

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে রাজস্ব বাজেট ও বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম, জনবল ব্যবস্থাপনায় বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, কার্যালয়ের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের সময়ে কাবিল ও মনির হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব বাজেট অনুযায়ী তাদের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করানো হয়েছে। অথচ তাদের শ্রম ব্যয়ের বিল বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প ও কর্মসূচির আওতায় সমন্বয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি তহবিলের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গবেষক দাবি করেন, এলএসটিডি (LSTD) প্রকল্পের অর্থায়নে ২০২৫-২৬ বোরো মৌসুমে Alart (PQR Basmati) প্রদর্শনীর জন্য সাইনবোর্ডের খুঁটি, সার ও অন্যান্য উপকরণ ক্রয়ের বিল-ভাউচার পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন অসঙ্গতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাঁর দাবি, ব্রির গাজীপুর প্রধান কার্যালয়ে সংরক্ষিত মূল বিল-ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলে চাকরিতে যোগদানের পূর্বেই ২০ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিল ও স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

অভিযোগকারী সূত্রগুলোর আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট কিছু বিল-ভাউচারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে অথচ ঐ কর্মকর্তার চাকরিতে যোগদান ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। এসব নথির সত্যতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

তবে এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে এখনো কোনো আদালত বা সরকারি তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কার্যালয়ের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনীয় হলে স্বাধীন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x