মেহেরপুর লকডাউনের হ-য-ব-র-ল অবস্থা,বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু’র সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

হাসানুজ্জামান- স্টাফ রিপোর্টার (মেহেরপুর): মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু’র সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। জেলার দুটি উপজেলায় তিনটি গ্রাম লকডাউন ও চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করলেও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বেপরোয়া ভাবে চলাচল করার কারণে করোনা সংক্রামন কিছুতেই কমছেনা। মেহেরপুর জেলা শহর ও মুজিবনগরে প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও গাংনী উপজেলায় প্রশাসনের তৎপরতা নেই বললেই চলে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে,বর্তমানে জেলায় করোনা আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা ২শ’৫৮ ও মৃত ৩৩ জন। এর মধ্যে মেহেরপুর সদরে ৭২,গাংনীতে ১শ’৯ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৭৬ করোনা আক্রান্ত।
এদিকে সন্ধ্যা ৬ টার পর মেহেরপুর সদর,গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা শহরের দোকান বন্ধ থাকলেও গ্রাম অঞ্চলে দোকান বন্ধের কোন উদ্যোগ নেই। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত্রী পর্যন্ত চলে আড্ডা। আড্ডা ও দোকান বন্ধ সহ জনসাধারনকে ঘরে ধরে রাখতে তেমন কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। নাম মাত্র কয়েকজনকে জরিমানার আওতায় আনলেও সচেতনতা ও তদারকির অভাবে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের করোনা রোধে নানা পরিকল্পনা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাংনী উপজেলার হিন্দা,তেঁতুলবাড়িয়া ও মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস সীমান্ত গ্রামে করোনা সংক্রামন বৃদ্ধি হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষনা করা হলেও কার্যত মুখথুবড়ে পড়েছে লকডাউন। লকডাউন এলাকায় দোকানপাট খোলা রয়েছে। মানুষ অবাধে চলাচল করছে। এখনই ব্যবস্থা নেয়া না হলে সংক্রামন মহামারি আকার ধারন করতে পারে বলে আশংকা স্থানীয়দের। এছাড়া জেলার সবচেয়ে বড় পশু হাট বামুন্দীতে পার্শবর্তী কয়েকটি জেলা ও সীমান্ত এলাকার পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। এছাড়া জেলার ছোটবড় সব হাটবাজারে বিপুল সংখ্যক জনসাগম ও স্থাস্থ্যবিধি অমান্য করে অবাধে চলাচল করার কারণে করোনা সংক্রান্ত সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারনা করছে এলাকাবাসি। দ্রত সময়ের মধ্যে পশু হাট সহ অন্যান্য হাটবাজার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে করোনা ভয়াবহ রুপ ধারন করতে পারে।

এদিকে মেহেরপুর সদর,গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা বেশ কিছু গ্রাম ঘেঁষে ভারতীয়দের জমি থাকায় বিএসএফ সদস্যদের কাছে ভারতীয়রা তাদের পরিচয়পত্র জমা দিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঢুকে দুই দেশের কৃষকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মিলেমিশে চাষাবাদ করছেন। এসব কারণে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট নিয়ে আতঙ্কিত সীমান্ত জেলার মানুষজন।
সচেতন মহলের দাবি,করোনা সংক্রামন প্রতিরোধে জেলার সকল পুলিশ ক্যাম্প, মসজিদের ইমাম,জনপ্রতিনিধি,শিক্ষক,বাজার কমিটির সভাপতি/সম্পাদক ও গ্রামপুলিশ সহ সেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানো গেলে ভয়াবতার হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন মো: নাসির উদ্দীন জানান,গত কয়েকদিন করোনা আক্রান্তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। সকলে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কোন কারন ছাড়াই অবাধে চলাচল করলে করোনা সংক্রামনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়,করোনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আসার পর পজেটিভ সনাক্ত হলেও করোনা রুগী তার ইচ্ছামত যাত্রীবাহি বাস,স্যালো ইঞ্জিান চালিত আলগামন,নছিমন ও পাখি ভ্যান সহ মটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছে। করোনা সনাক্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালের করেনা ইউনিটে রাখা কিংবা হাসপাতালের বিশেষ ব্যবস্থায় তার বাড়ি ফেরার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি এলাকাবাসির।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক বলেন,সম্প্রতি গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামে করোনা রুগীদের খোঁজখবর নিতে বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় করোনা রুগী গাংনীতে ঔষধ ক্রয় করতে গেছে। করোনা রুগী যদি বাজারে যায় তাহলে করোনা সংক্রামন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খাঁন বলেন,সকলের সাথে সমন্বয় করে করোনা প্রতিরোধে কাজ করছে প্রশাসন। সীমান্তে বিজিবিও টহল জোরদার করেছে। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x