বালিয়াডাঙ্গীতে বিএনপি কর্মীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভাংচুর, লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ

মোঃসোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
বিএনপি কর্মীর হত্যাকাণ্ডকে

আজ বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মোজাম্মেল হক (৪৫) নামে বিএনপি’র কর্মীকে পিটিয়ে হত্যাকে কেন্দ্র আ.লীগ সমর্থক ও কর্মীদের বাড়ীতে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। আজ দুপুরে এলাকায় আওয়ামী কর্মী ও সমর্থক বেশ কয়েকজনের বাড়ী ভাংচুর, ঘরের জিনিসপত্র লুটপাট ও বাড়ীর পার্শ্বে খড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুর খবর শোনার পর এমন তাণ্ডব চালায় এলাকাবাসী।

এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরস্থা করছে। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় ১০টি পরিবারের লোকজন।

সরজমিনে জানা যায়, নিহত মোজাম্মেল হকের ছেলে মিলন আলী জানান, বাজারে ইফতার কেনার জন্য গেলে বাবাকে ভাদরু মেম্বার, মিলন, ভট্টু ডাক্তার, কালাম, আনসারুল, আব্দুল, মোহাম্মদ আলী, লুৎফরসহ আরও কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায়। বাবাকে বাচাতে আমার দুইজন চাচা এগিয়ে গেলেও তাদের মারধর পরে।

তিনি আরও জানান, ‌আমরা উদ্ধার করে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করালে তিনি সেখানে মারা যান। মৃত্যুর খবর শোনার সাথে সাথে আমাদের উপর দোষ চাপানোর জন্য হামলাকারীরা নিজেদের বাড়ীতে এসে খড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের বাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সুত্রে জানা যায়, বাজারে মারপিটের সময় অনেকেই মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেছিল। পরে ভাদ্র মেম্বারের ছেলে আবু সাঈদ অনেককেই মারপিট করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং ভিডিও ডিলিট করে দেয়। মঞ্জুর আলম আরো জানান, পূর্ব শত্রুতা এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত ভাবে তিন ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাজারে অবস্থান নিয়েছিল ভট্টু ডাক্তার ও ভাদ্রু মেম্বারের লোকজন। বাজারে ঢুকতেই অতর্তিক হামলা চালায় তারা।

নিহত বিএনপি কর্মীর স্ত্রী, তার ছেলে ও এলাকাবাসী এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে বাড়ী-ঘর ভাংচুরের ঘটনায় যেন নির্দোষ কোন ব্যক্তিকে মামলায় ফাসানো না হয় সেটিও সুষ্ঠু ভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে জানা গেছে, রাতে মোবাইলে সংবাদ পাওয়ার পর ওই গ্রামে আগুন নিভাতে গিয়েছিল ফায়ার কর্মীরা। খড়কুটোর আগুন নিভিয়ে ফিরে আসে।

আগুন কে দিয়েছিল এটি সঠিক বলতে পারেনি স্থানীয়রা। বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রায় ২০ জনকে আসামী করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আজ বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তিনি রিসিভ করেন নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x