বাবার মুখে ৬০ টাকার গল্প!-মোস্তাফিজুর মিশুক

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

আমার বাবা ছিলেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। বাবা আর শিক্ষক হিসেবে আমার প্রথম আদর্শ ছিলেন আমার বাবা। পারিবারিক শিক্ষাটা যেমন নিজ হাতে দিয়েছেন, তেমনই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও। “পৃথিবীতে সেই সন্তানই সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান যেই সন্তান বাবার হাত ধরে স্কুলে গিয়ে শিক্ষক হিসেবে পাঠদানে বাবাকেই পায়”। ব্যক্তি জীবেন বাবা ছিলেন খুবই দায়িত্ববান পুরুষ। স্কুলের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন সততা আর নিষ্ঠার সাথে। দায়িত্ব পালন করে বাড়ি ফিরত মাঝ রাতে, এ নিয়ে মায়ের সাথে প্রায়ই ঝগড়া লেগে যেত। মা বলত মানুষের ছেলে মেয়েকে মানুষ করলেই হবে না, নিজের ছেলে মেয়েকেও মানুষ করতে হবে । বাবার কোন ছাত্র যদি ভাল রেজাল্ট করত তাহলে ওই ছাত্রের বাবার চেয়ে কোন অংশেই কম খুশি হতেন না ।

আট ভাই-বোনের পরিবার ছিলাম আমরা। বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়া ভাইদের চাকরি পড়াশোনা সব মিলিয়ে খুব কম সময়েই সবাই পরিবারে একসাথে হতে পারতাম । বছর পাঁচেক আগে ডিসেম্বর মাস শীতের ছুটিতে ভাই বোন বোনের ছেলে মেয়ে সবাই বাড়িতে একসাথে হই। আর সবাই এক সাথ হলে বাবার সংসার যেন পরিপূর্ন হয়ে যেত। মাঝ ঘরে বসত ছেলে মেয়ে নাতি নাতনীদের আড্ডা। বাবা শুনাতেন তার কর্মময় জীবনের গল্প । মায়ের সাথে তার জীবনের গল্প । আহ কি মধুর খুনসুটি।

বাবা একবার ৭ দিনের ট্রেনিং এ গিয়েছিলেন বরিশালে বাজার খরচ হিসেবে মায়ের হাতে দিয়ে গেছিলেন ৭ টাকা । ৭ দিন পরে আসলে মা বাবার হাতে বাকি ৫ টাকা তুলে দেয়। কথাটা শুনে আমি খুব আর্শ্চয হলাম । বুজতে পারলাম একজন মা সংসারের প্রতি কতটা দায়িত্ববান। তৎকালীন সময় বাবার বেতন ছিল মাত্র ৬০ টাকা । ট্রেনিং শেষে মায়ের জন্য ৫ টাকা দিয়ে একটা শাড়ি আর দাদুর জন্য ৩ টাকা দিয়ে একটা শাড়ি কিনে আনেন। বাবার কথা গুলো শুনে আমার কাছে স্বপ্ন মনে হতে লাগলো। ভাবলাম কেমন ছিল সেই দিনগুলো ? আমাদের জীবনেও যদি সেই দিনগুলো ফিরে আসত । বাড়িতে সবাই আসায় বাবা ব্যাগ বর্তি বাজার করে নিয়ে আসেন। রাতের আড্ডায় বাবা বলেন “আমার বেতন ছিল ৬০ টাকা আজ একটা লাউ কিনলাম ৬০ টাকায়”

বাবা খুব মনে পরে তোমাকে , খুব বেশি ভালোবাসি তোমাকে। পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়ার এক বছরের উপলবদ্ধি করতে পেরেছি সন্তানের জন্য বাবার কতনা আদর সোহাগ শাসন আর দায়িত্ব। এই বিষয় গুলো বাবার কাছ থেকে আর কোন দিনও পাব না তা ভাবতেই খারাপ লাগে! সন্তান হিসেবে কোন দায়িত্ব পালন করতে পারি নাই বাবা। এই আক্ষেপ জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত তারা করে বেড়ায়। আর তোমার সন্তানের কাছে খুব বেশি চাওয়ারও ছিল না শুধু বলতা তোরা মানুষ হয়। জীবনের প্রতিটা সফলতায় আর ব্যার্থতায় তোমাকে বেশি মনে পরে বাবা । সফলতায় যেমন সন্তানের বাবা হিসেবে তোমার গর্ব থাকে । নিজের ব্যার্থতায়ও তোমার সু-পরামর্শ আমার জীবনের গতি পথ পাল্টিয়ে দিত। এখন মনে হয় বাবার চেয়ে পৃথিবীতে আর কেউ ভাল শাসন আর সু-পরমর্শ দিতে পারে না। পৃথিবীতে কোন বাবাই সন্তানের অমঙ্গল চায় না ।

বাবা দোয়া কর তোমার আদর্শ আর দেখানো পথেই যেন এ জীবন চালাতে পারি। তুমি ভাল থাক বাবা। তোমার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করি ।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x