শিরোনাম:
হাটহাজারীতে ইউপি নির্বাচনে নৌকার ৮ জন ও স্বতন্ত্র ৫ জন বিজয়ী চাটমোহরে ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ৭, স্বতন্ত্র ৪ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হাতীবান্ধার সানিয়াজানে রাস্তা নির্মাণে নবতরী বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র আর্থিক সহায়তা প্রদান ঝালকাঠিতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রয়ের অভিযোগ ঝালকাঠিতে ১০০ টাকায় ১৪ তরুণ-তরুণীর পুলিশে চাকরীমো. কুতুবপুর ইউপি নির্বাচনে সেলিম রেজা বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত। সুন্দরগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার ছিনতাই সিরাজগঞ্জে ভোটের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত ২ সাংবাদিক গোটা দেশের মানুষ জান মালের নিরাপত্তা সহ সুখে শান্তিতে বসবাস করতেছেন-বজলুল হক হারুন এমপি বোয়ালমারীতে মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর হামলা, থানায় অভিযোগ

বাউফলের দুর্ধর্ষ ভয়ংকর ইসমাইল ডাকাত পুলিশের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১
বাউফলের দুর্ধর্ষ ভয়ংকর ইসমাইল ডাকাত পুলিশের হাতে আটক

পটুয়াখালীর বাউফল- ৪ নং কেশবপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইসমাইল ডাকাত পুলিশের হাতে আটক।

কেশবপুর বাজারের দক্ষিন পাশে ডাকাতির টাকায় তৈরি নিজ বিল্ডিং বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং আটকের সময় তার কাছ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, রান্দা ও অনেক গুলো দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। প্রায় ২ যুগের বেশি সময় ধরে চুরি, ডাকাতি, চাদাবাজি, ভাড়ায় মানুষ খুন, নারী ধর্ষণ করা সহ বিভিন্ন অপরাধ মুলক কাজের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত এই ডাকাত লিডার।

২১ নভেম্বর ২০২১ ইং রোজ রবিবার ভোরে বাউফল থানার পুলিশের হাতে আটক হয় এই দস্যু। ইসমাইল ডাকাতের আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে সাধারণ মানুষের চোখ থেকে আনন্দের অশ্রু ঝরতে থাকে, খুব অন্যায় ও অবিচার করে আসছিল এই চক্র। কেউ রাতে ঘুমাতে পারত না, কখন ইসমাইল বাহিনী আসে, কখন সব কিছু কেড়ে নিয়ে যায়।

ইসমাইল শুধু ডাকাতই না, অনেক রাজনৈতিক নেতাদের হাতিয়ার ও বটে, তাকে হাতে রেখে অনেক নেতা রাজনৈতিক স্বার্থহাসিল করে আসছে। কারন ইসমাইল গ্রুপ সাথে থাকলে কেউ তার সাথে শত্রুতা করার সাহস পায় না । যার কারনে ইসমাইল যত বার পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ঠিক ততোবারই রাজনৈতিক কোনো না কোনো নেতা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, এবারও কি ইসমাইল ডাকাত আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে? ইসমাইল বাহিনীর অন্যতম শক্তির মধ্যে একজন হলো, কেশবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তসলিম তালুকদার।

এলাবাসীর দাবি রাজনৈতিক নেতারাই ইসমাইলকে ব্যবহার করে সাহস দিয়ে আসছে এবং এই নেতারাই তার প্রধান শক্তি। ইসমাইলের ডাকাতি এবং লুটের একটা অংশ তাদেরকে দেওয়া হয়, তা না হলে তার পক্ষে সাফাই কেন গায়।

কে এই ভংকর ইসমাইল ডাকাত ?
কেশবপুর ২ নং ওয়ার্ডের মৃত্য সাহেদ আলীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে -মেঝ ছেলে হল এই ইসমাইল ডাকাত। অন্য দুই ভাই দিনমজুর হলেও পরিশ্রম করে সৎ ভাবে জীবনযাপন করছেন কিন্তু ইসমাইলের অন্য কোন পেশা নাই ডাকাতি ছাড়া।

ইসমাইলের পরিবারের সদস্যদের কথা, ইসমাইল কে পুলিশ প্রায়ই ধরে কিন্তু রাখতে পারেনা। সরকার এবং প্রশাসন কি করেন ? এই ডাকাত কি তাদের চেয়েও শক্তিশালী? এই অন্যায় গুলো কি তারা দেখে না। এই জুলুমের শেষ কোথায়??

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়,
ইসমাইল ছোট বেলা থেকেই চুরি ডাকাতির সাথে লিপ্ত, বর্তমানে তার দুটো ছেলে- তারাও বাবার ডাকাতি পেশায় জড়িয়ে গেছে। তাদের মূল পেশা হল ডাকাতি ও চুরি। ইসমাইল সারাদিন বাজারে বসে গাজা খায় আর তার শিস্যদের নিয়ে আড্ডা মারে এবং রাতে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সিডিউল করে, তার বেশ কয়েকটা গ্রুপ আছে, যার নেতৃত্ব তিনি নিজেই ওতোপ্রোতভাবে দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটা এলাকায় তার খোচর আছে। যার কারনে ডাকাতি করাটা খুব সহজ হয়। তার অন্যতম বন্ধু রেজাউল ডাকাত প্রায় তার সব অপারেশনে সাথে থাকে। ইসমাইল শুধু ডাকাতিই করে না, তার আছে প্রচন্ড নারীর নেশা, যত বার ডাকাতি করতে যায়, প্রত্যেক বার সেই বাড়ির নারীদের কে জোড় করে ধর্ষণ করে আসে পিস্তল কিংবা বন্দুকের নল ঠেকিয়ে। কেউ তার হাত থেকে পরিত্রান পায় নাই।

তার ঘরে স্ত্রী থাকা সত্যেও মমিনপুর থেকে জোড় করে একটা মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসে এবং সেই মেয়ে এখনও তার বাসায়। রেজাউল এবং ইসমাইল রাতে ওপেনে বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং মাঝে মাঝে ফাঁকা ফায়ার করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। যার কারনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক কাজ করে। সাধারণ মানুষ কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করে নাই প্রানের ভয়ে।

বিশেষ করে ইসমাইল এবং রেজাউল দিনে দুপুরেও যদি সব কিছু লুটেপুটে নিয়ে যায় কেউ টু-টা শব্দটুকুও করেনা। তার অনেক প্রমাণ আছে।
বাউফলে শত শত গরু এবং পুকুরের মাছ ইসমাইল দাঁড়িয়ে থেকে লুফে নিয়েছে। ইদানিং ঘরের ফ্রীজ টা পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুরুব্বি বলেন, রাতে গরু ডাকাতি করে কালিশুরি এক কসাইকে দেয়, সে রাতের মধ্যেই গরু জবাই করে প্যাকেট করে ফেলে, তাদের মধ্যে লিংক আছে।

কেশবপুর বাসি আজ পুলিশকে অন্তর থেকে সাধুবাদ জানাচ্ছে কারন, ইসমাইলের নামে অনেক মামলা থাকা সত্যেও এই ভাবে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পরেনি। এলাকার প্রত্যেকটি মানুষের মনে আজ আনন্দের মৌন মিছিল হচ্ছে। প্রকাশে কেউ করতে পারছেনা কারন, ইসমাইলের শিস্যরা এখনো এলাকায় সক্রিয়। বিশেষ করে ইসমাইল ডাকাতের ছেলে দুটো।

কেশবপুর বাসির প্রানের দাবি, ইসমাইল ডাকাতকে প্রকাশ্যে ক্রোস ফায়ার দেওয়া হউক, সেটা হবে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল প্রমাণ। আবারও প্রমান হউক আইন তার নিজ গতিতে চলে, আইনের উর্ধ্বে কেউ না, অন্যায় করে কেউ পরিত্রান পায় না, সবার উপরে আইন সত্য। যদি ইসমাইল ডাকাত এই বার বের হয়ে বেঁচে আসে তা হলে ডাকতদের মহা তান্ডবে সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা থাকবে না।

এলাকাবাসীর দাবি –
শুধু ইসমাইল ডাকাত কেন? রেজাউল ডাকাতকেও আইনের আওতায় আনা হউক এবং কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি বাস্তবায়ন করা হউক। হাজারো অসহায় মানুষের ত্রাস এই গুষ্টিকে শেষ করে দেওয়ার দাবি করেন তারা।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন,
২ যুগের বেশি সময় ধরে ইসমাইল/রেজাউল ডাকাতি করে আসছে কিন্তু কোন প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক কর্মীরা তার ব্যবস্থা নেয়নি। আজ ইসমাইল কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে হাজারো মানুষের অর্থ কেড়ে নিয়ে তিনি কোটিপতি হয়েছে কিন্তু প্রশাসন তার আয়ের উৎস কখন ও খুঁজে দেখে নাই, কোথা থেকে তার নেশার টাকা আসে কি তার পেশা।

অনেক দেরি হয়ে গেছে এই চক্রের নেতাকে ধরা , যদি আরও ৫ বছর আগে ইসমাইল/রেজাউল ডাকাতকে আইনের আওতায় আনা হত, তা হলে হাজারো পরিবার আজ নিঃশ্ব হত না,
হারাতে হত না কোন মা বোনের ইজ্জত ও পবিত্রতা।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x