শিরোনাম:
নওগাঁ জেলার আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি গ্রহনের অভিযোগ এর প্রতিবাদ সভা নওগাঁর রাণীনগরে ট্রাকের ধাক্কায় মটরসাইকেল চালক নিহত; আহত একজন রূপগঞ্জে মসজিদের বারান্দা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার রংপুরের হারাগাছে শামীম গুল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড জামালপুরে নির্বাচনকে পেছাতে চালাকী করে মামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রূপগঞ্জে কর্মহীন গরিব অসহায় বিধবা দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর টিম এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল স্যারের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস খেলা অনুষ্ঠিত স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন সভাপতি রবিউল, সম্পাদক জাহিদ, সাংগঠনিক রাজু

পলাশবাড়ী উপজেলার নামকরণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য

শাকিল তালুকদার,পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

ইংরেজ শাসনামলেও নানা স্মৃতি বিজড়িত আজকের পলাশবাড়ী। তাদের শাসনামলে নানা সংগ্রাম বিদ্রোহ এ অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে। পলাশবাড়ী আদিতে কেমন ছিল সে বিষয়টি প্রথমে আলোচনা করা দরকার।

বিভিন্ন সুত্র থেকে এ ব্যাপারে বেশ কিছু ধারনা পাওয়া যায়। পলাশবাড়ী উপজেলার মুল ভুখন্ড নদীর তলদেশে ছিল কালক্রমে নদীবাহিত পলিতে ভরাট হয়। ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ বন্যা এবং ১৮৯৮ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে বৃহত্তর রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির যথেষ্ঠ পরিবর্তন ঘটে।

মোঘল সম্রাট আকবরের সভা পন্ডিত আবুল ফজল প্রণীত ‘আইন-ই-আকবরী’ নামক গ্রন্থে আকবরের শাসন পদ্ধতি ছাড়াও তাঁর শাসনামলে রাজ্যের সীমানা এবং মহাল সমূহের বিবরণ পাওয়া যায়। ‘আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে ঘোড়াঘাট সরকারের আওতাধীন যে ৮৪টি মহালের বিবরণ রয়েছে তাতে গাইবান্ধা নামে কোন মহালের নাম নেই। সেখানে নামান্তরে বালকা (বেলকা), বালাশবাড়ী (পলাশবাড়ী), তুলশীঘাট, সা-ঘাট (সাঘাটা), বেরী ঘোড়াঘাট, কাটাবাড়ী আলগাঁ ইত্যাদি নাম দেখা যায়।

এ থেকে বলা যায় ষোড়শ শতাব্দীতেও গাইবান্ধা কোন উল্লেখযোগ্য ভূখন্ড হিসাবে পরিলক্ষিত হয়নি।

ষোড়শ শতাব্দীরও আগে থেকে ঘোড়াঘাট ছিল একটি উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক কেন্দ্র।সমগ্র ভারতবর্ষে ইংরেজ বিরোধী তথা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তীব্র আকার ধারণ করে,

সেই সময় ১৯২১ সালে ২০শে আগষ্ট স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এক বিরাট জনসভা থেকে “স্বাধীন পলাশবাড়ী ষ্টেটের” ঘোষণা দেন। তাছাড়া ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে পলাশবাড়ীর গৌরবময় অবদান উল্লেখযোগ্য। শুধু তাই নয় নিপীড়িত মানুষের অধিকার অর্জন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ গণমানুষের যে কোন দাবীর বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

১৯২১ সালে সেই স্বাধীনতা ঘোষণার পর এক মাস যাবত পলাশবাড়ী প্রকৃত প্রস্তাবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ষ্টেটে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীকালে অবশ্য ইংরেজ সরকার স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার এবং সার্বভৌম ব্যবস্থাপনাকে ভন্ডুল করে দেয়। তা সত্ত্বেও পলাশবাড়ীর জনগণকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছু হটানো সম্ভব হয়নি।

পলাশবাড়ী থানার নামকরণ সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে এই থানা সৃষ্টির পিছনে “স্বাধীন পলাশবাড়ী” আন্দোলন কাজ করেছে।

“স্বাধীন পলাশবাড়ী” আন্দোলন নস্যাৎ করার পরেই গোবিন্দগঞ্জ থানার উত্তরাংশে পলাশবাড়ী উপজেলা স্থাপিত হয়।

উল্লেখ্যঃ আগামী ২০ অগাস্ট, ২০২১ “স্বাধীন পলাশবাড়ি স্টেট” ঘোষণার শতবর্ষ পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে পলাশবাড়ীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবঃ মফিজুর হক সরকার কে আহ্বায়ক করে ৫১সদস্যদের “স্বাধীন পলাশবাড়ি স্টেট ” ঘোষণার শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন কমিটি গঠিত হয়েছে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ২০শে
অগাস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় “স্বাধীন পলাশবাড়ি স্টেট” ঘোষণার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য আপামর
পলাশবাড়ি বাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x