নারী তুমি ধর্ষিত” –রাসেদ মাহমুদ

রুবেল আহমেদ, রংপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

“নারী তুমি ধর্ষিত”
–রাসেদ মাহমুদ

শ্লোগান হতে পারতো-
তুমি মার্জিত হও মেয়ে। এরপরও তোমার ধর্ষণ হলে ঐ পুরুষের কলিজা চিবিয়ে খাবো।

কিন্তু শ্লোগান হয়েছে- বেশ্যা হলেও তার ধর্ষন হতে পারে না।
শ্লোগান হচ্ছে- না মানে না।

একটু ভেবেছেন কি! আপনাদের মনগড়া এই ভুল শ্লোগানের কোথাও মেয়ের বেপরোয়া হয়ে অবাধে চলার উষ্কানি আছে কি না। অতি আবেগের চর্চা করতে করতে মানুষ শেকড় নিয়ে ভাবতে ভুলে যায়। পড়ে থাকে লতা পাতা ডালপালা ফুল ফল নিয়ে। অথচ গোড়াটার কথাও তো ভাবা উচিৎ মানুষের। কি করে বোঝাই!
আমি দাবী করছি ধর্ষনের মতো পরিবেশ আর পরিস্থিতি তৈরী হওয়া থেকে আমরা বেঁচে চলতে পারি কি না!
আপনি আগা গোড়া কিচ্ছুটি না বুঝেই মন্তব্য করে বসলেন বোরকা পড়া সম্ভান্ত মেয়ে বা শিশু বাচ্চাদের ধর্ষণ হবার কথা। মানে অতি আবেগের বশবর্তী হয়ে আপনি আমার গোড়ার কথা টপকে গিয়ে আপনার মগজে গেঁথে রাখা “ধর্ষকের বিচার চাই” মতবাদে চলে গেলেন। তর্ক’ও করছেন। একবারও ভাবলেন না আসলে আমি কি বোঝাতে চেয়েছি।
আমি উষ্কানিমূলক অবাধ চলাফেরা আর অশালীন পোশাক পরিচ্ছদের কথাও বলছি। একবার মন থেকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন তো আসলেই কি এগুলো কোনো ভাবেই প্রভাব ফেলে না যৌন উত্তেজনার? চোখ বন্ধ করে গভীর মনোনিবেশ করে উপলব্ধি করুন একবার দয়া করে।

আপনি হয়তো বলবেন সবাই এক রকম নয়। আমিও জানি সবাই এক রকম নয়। কিন্তু ভাবার বিষয় হচ্ছে- সবাই এক রকম হতে ঠিক কতোদিন সময় লাগবে তা বলতে পারবেন? এক প্রজন্ম? দুই প্রজন্ম? পঞ্চাশ বছর এক’শ বছর পরেও কি আপনার এই ভুল মতবাদের উষ্কানি গুলোতেও সবাই এক রকম হবে না? আজ থেকে সামান্য পঞ্চাশ বছর আগেও তো বাংলাদেশে মেয়েরা ফতুয়া, শার্ট, টপস্, বিকিনি পড়ে এমনকি ওড়না ছাড়া খোলা বুকে অবাধে চলাফেরার কথা ভাবতেই পারেনি। তখনও কিছু মানুষ আজকের আপনার মতোই গা ভাসানো অবস্থানে ছিলো। তারাও বলতো সবাই তো এক রকম নয়। তার ফলস্বরুপ আজকের অবস্থা টা একটু দেখুন একটু ভাবুন তো! আজ প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মেয়ে এমন সব পোষাক পড়েই অবাধে চলাফেরা করছে। তাদের মনের জড়তাও কেটে গেছে শরীরের বান’ও খুলে গেছে। আপনি কি বুঝতে পারছেন আমি কোন ক্যান্সারের কথা বলছি? হ্যা আপনার আমার আমাদের গা ভাসানো আবেগপূর্ণ ভুল মতবাদের উস্কানীমূলক মারাত্মক একটা ক্যান্সারেরই কথা বলছি। ক্রমাগত এই ক্যান্সার আমাদেরকে ধাবিত করছে মনুষ্যত্ব ধ্বংসের দিকে। পঞ্চাশ বছর আগে বাংলাদেশের ছেলেরাও তো সিক্সপ্যাক বডি শেইমিংএর কথা কল্পনা করতে পারতো না। আন্ডারওয়্যার পড়ে কোনো মডেলিং তো দূরের কথা একা ঘরে আন্ডারওয়্যার পড়ে শুয়ে থাকতেও লজ্জা পেতো। কিন্তু আজকের অবস্থা টা দেখছেন তো নিজেই। মেয়েরা তাদের শরীর প্রদর্শন করতে যেমন একটা নিরব সম্মতি পেয়ে গেছে! তেমনই ছেলেরাও আষ্কারা পেয়েছে আপনাদের ভুলভাল সব আবেগী শ্লোগানের ইন্ধনে। কেনো রে ভাই?
তাদেরকে এমন বেপরোয়া হয়ে চলার ইন্ধন না দিয়ে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা কেনো করছেন না? কি লাভ হচ্ছে এতে আপনার? বরং ক্ষতি করছেন নিজের। চরম ক্ষতি করছেন। আমি তো আমার অনাগত ছেলে মেয়ে নাতি নাতনির প্রজন্ম গুলোকে দেখতে পাচ্ছি একদম জঘন্য রকম যৌনাচারের সভ্যতায় মত্ত। যেটা এখন হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন না। কিন্তু একটা সময়ে বুঝবেন অবশ্যই। তখন বিবেকহীনতার লজ্জায় নিজের গলায় দড়ি দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না আপনার।

ভাষা কখনও মূর্খতা প্রমাণের হাতিয়ার হতে পারে না।
সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষিত হয়েও যে আপনার চিন্তা ধারণা মূর্খের মতো! তা যেমন করে যেমন ভাষাতেই হোক প্রমাণ করে দেয়া সম্ভব।

শ্লোগান বদলান।
আবেগকে প্রশ্রয় দিতে গিয়ে এভাবে প্রজন্ম গুলোর ধ্বংস ডেকে আনবেন না দয়া করে। একটু চিন্তাশীল হোন। একটু উপলব্ধি করতে শিখুন।

আপনাদের মনগড়া প্রবাদ আর শ্লোগান গুলোই তাদেরকে ইন্ধন জোগাচ্ছে যা খুশি তাই করার। এই সহজ ব্যাপারটা কবে বুঝতে শিখবেন আপনারা? ভয় সরে যাচ্ছে তাদের ভেতর থেকে। বেপরোয়া হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত। তার কারণ আপনারা। আপনারাই তাদেরকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন। তারাও ধরে নিয়েছে কি হয় হোক! অন্তত রেপ হলে তো লোকে আমার সাপোর্ট করবেই। ডোন্ট কেয়ার।

কেনো এই মানসিক অবক্ষয়? একবারও কি ভাবছেন না? আর কবে ভাববেন? আপনার নিজের বউ/বোন/মেয়ে যেদিন ধর্ষণ হবে সেদিন বুঝবেন? তাতে লাভ কি হবে? ধর্ষণ হবার আগেই তা ঠেকানোর উপায় ছিলো কিন্তু আপনি আমলে নেননি। ধর্ষণ হবার পরে আপনার ঐ প্রতিবাদটা আপনার মুখে মানায় না। একদমই নাহ্।
আপনার ছেলে মেয়েকে আপনি যদি শুধু আদরে আহ্লাদেই মানুষ করে থাকেন! তো শাসন টা করবে কে? অন্য কেউ বললে তো তখন আপনি অন্যকে দোষারোপ করেন। তখন আবার আপনার কলিজায় আঘাত লাগে। আর কিভাবে বোঝাবো আপনাদের?

আজও আমায় ভুল বুঝবেন অনেকেই জানি। রোগের কারণ গুলো নিয়ে না ভেবে শুধুই রোগীকে নিয়ে ভাববেন অনেকেই জানি। অথচ উচিৎ কারণ খতিয়ে দেখে সেই রোগটাকে গোড়া থেকে নির্মূলের সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়া।
কি করে বোঝাই! দর্শন আর ধর্ষণ এক জিনিস নয়। আপনার দর্শনে ধর্ষন একটা অন্যায়। আর আমার দর্শনে ধর্ষন একটা রোগ। অবশ্যই এই রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন আবেগহীন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। কিন্তু বাঙ্গালী তো আবার আবেগ ছাড়া কিছুই বোঝে না। বাস্তব কথার যুক্তি দাড় করালেই বাঙ্গালী আবেগে কেঁদে একাকার করে লোক জড়ো করে। এবং জড়ো হয়েও যায় অনেক মানুষ। তারা আবেগের কান্না দেখে মজা পায়। কারণ তারা নিজেরাও আবেগের কৃতদাস।

আহারে মানুষ।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x