দ্বিদা-দন্দ্বে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

মোস্তাফিজুর মিশুক,সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট: ক্ষমতাসীনদের দ্বারা যতটা না নির্যাতিত বিএনপি তার চেয়ে বেশি নিগৃহীত দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে।
বেগম খালেদা জিয়া দলীয় প্রধান ছিলেন, ছিলেন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক জীবনে কারাভোগ, সংগ্রাম, রাজপথ, রাষ্ট্র প্রধান থেকে এখন বার্ধক্য। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের বার্ধক্যজনিত সমস্যাও বাসা বাধেঁ।
হয়ত নিকট ভবিষ্যতে তার একদিন প্রস্থানও হবে এটাই জীবন।
এখন আসি মূল কথায়, বেগম খালেদা জিয়া তো আর সাধারণ মানুষ না, আছে তার লাখ লাখ নেতা কর্মী, দেশে বিদেশে রয়েছে তার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী!এখন এবয়সে এসে নানান শারীরিক সমস্যা হতেই পারে। দলীয় শীর্ষ নেতারা ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক খোঁজ খবর রেখেই থাকেন। করোনা মহামারি এখন প্রকট আকার ধারণ করে যাচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরেই দলীয় নেতার রাজনৈতিক কোন বক্তৃতা সভা সমাবেশ থেকে কর্মীরা বঞ্চিত। এমতাবস্থায় দলীয় প্রধানের অসুস্থতার সংবাদ তার নেতা কর্মীদের গণমাধ্যম থেকে কেন শুনতে হবে?

এখানে অসুস্থার কথা গোপনের কি আছে! বিএনপি নেতারা কি ভাবছেন তৃণমূলের নেতাদের মন ভেঙে যাবে!
হুম, ভাবাটা ঠিক! কিন্তু তাদেরও বুঝতে হবে আজ এই তৃণমূলের জন্যই গৃহিণী থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন,কেননা দলীয় প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও বেগম খালেদা জিয়ার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

আল্লাহ না করুক আজ যদি বেগম খালেদা জিয়ার কোন মৃত্যুর সংবাদ শুনতে হত, এমন পরিস্থিতির জন্য বিএনপি নেতা কর্মীরা মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হত না? আমি মনে করি খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতার সংবাদ জানানো বা না জানানো শুধু ব্যক্তি খালেদা জিয়া কিংবা দলীয় শীর্ষ পদের একক কোন সিদ্ধান্ত হতে পারে না। কর্মীরা এতে অসহায় বোধ করে।

আমি আরও মনে করি দলীয় মহাসচিব এর সিদ্ধান্তহীনতা, এই দ্বিধা-দন্দ্বের বেড়াজালে সাধারণ নেতা কর্মীদের কে আরও বেশি উৎকন্ঠায় রেখেছে, কেননা একের পর এক গণমাধ্যম বেগম খালেদা জিয়ায় করোনার পজিটিভ নিউজ করছে।সেখানে মহাসচিব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে! যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের ও পরিবারের সদস্যদের কথার সাথে সাধারন মানুষ কোন মিল খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকই হয়ত বলবে এটা বিএনপির ঘরোয়া সিদ্ধান্ত।
হ্যাঁ, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এটা বিএনপির ঘরোয়া সিদ্ধান্ত হতে পারে কিন্তু দলীয় প্রধানের অসুস্থতার কথা গোপন রেখে এটা দলীয় সিদ্ধান্ত বলে চাপিয়ে দিবে অন্তত পক্ষে বিএনপির নেতা কর্মীরা এটা মেনে নিবে বলে আমার মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলীয় মহাসচিব চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে আমার মনে হয়।

আমি আশা করি সরকার বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সর্বোপরি, আমি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x