দুজন যোদ্ধার কথা

শাহজাদা সালভি রহমান রাব্বি
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
দুজন যোদ্ধার কথা

দেশের সনামধন্য দক্ষিণের জনপদের ছোট গোছানো এক শহরের কোণে জন্ম আমার। ধুলো মাখা মাটির সাথে বেড়ে ওঠা আমার । অতি সাধারন ঘরের সাধারন মা বাবার প্রিয় সন্তান আমি । কিন্তু আমার প্রিয় বাবা অল্প আয়ের কর্মজীবি হলেও আমাকে কখনো বুজতে দেননি যে কত কষ্ট সংগ্রাম করে তিল তিল করে সংসারকে আগলে রেখে দিনগুলো এগোচ্ছে কিন্তু বাবা মায়ের সপ্নই যেন আমাকে ঘিরে তাইতো শহরের সবচেয়ে ভালো কিন্ডারগার্টেনে লেখাপড়া করিয়েছেন ভালো মানুষতের সাথে চলতে শিখিয়েছেন আয়ের একটা বড় অংশ আমার জন্য খরচ করতো বাবা কখনো আমার কোনো চাহিদা অপুর্ন রেখেছেন কিনা আমার মনে পরেনা । আমার মনে পড়ে আমার কিন্ডারগার্টেনের প্রতিটি দিনই সকাল বেলা মা বাবা দুই জনই শুধু আমার জন্য সময় দিতে ব্যাস্ত হয়ে যেত প্যান্ট,শার্ট,টাই, জুতা পরিয়ে দেওয়া ,বই,খাতা, টিফিন ইত্যাদি গুছিয়ে দেওয়া মাথার চুল, নখ, দাত পরিস্কার ইত্যাদি নিয়ে। ছোট থেকেই জীবনের সব কিছুতেই একটা নিয়মের মধ্যে বেড়ে ওঠা আমার । মহল্লার ছেলেমেয়েদের সাথে মেলামেশা করে খেলাধুলা এগুলো আমার করার তেমন সুযোগ কখনো হয়ে ওঠেনি। স্কুলে যাওয়া ছাড়া ঘরের বাইরে নামাই সম্ভব হতোনা মা যেন আমাকে ছাড়া কিছুই দেখতনা চোখদুটো সি সি ক্যামেরার মত আমার দিকেই থাকত মনে হয়। এভাবেই কোনো না কোনো ভাবে প্রতিটি মা বাবাই আমাদের বড় করেছে জীবনে সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ড ৷ কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবেছি মা বাবাকে নিয়ে ? যারা নিজেদের সপ্নকে ফেলে রেখে নিজেদের চাওয়া পাওার গুরুত্ব না দিয়ে আমাদের চাওয়া পূরন করেছে যারা আমাদের জীবন বীমার মত সপ্ন নিয়ে শুধু খরচ করে গেছেন শেষে কিছু পাওয়ার জন্য আসলে তারা কি আমাদের থেকে জীবন বীমার মত সন্তোষজনক ম্যাচুরিটি পেয়েছে? নাকি ভুলে গেছি? আজ আমি বেশ বড়! ভার্সিটির ছাত্র বলে কথা। কত শত যান্ত্রিকতার মাঝেই বেঁচে থাকা সারাটি দিনভর। আচ্ছা আমরা কখনো প্রিয় বাবার কুচকানো শার্টটি দেখেছি নাকি নিজের ব্রান্ডের শার্টটি নিয়েই আছি? হ্যা আমাতের আজ স্মার্ট ফোনো সময় দেওয়ার মত সময় থাকে কিন্তু বাবার ঔষধ এনে দেওয়ার সময় থাকেনা এমনই যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি আমরা হারিয়ে যাচ্ছে আবেগ অনুভুতি অনুপ্রেরণা অনেক সন্তানরা সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে প্রিয় বাবা মাকে মনে না করলেও মনে করে ফেসবুক ইমো ভাইবার টুইটার ইত্যাদি সাইটগুলোর কথা একটি মিনিট ফোন দিতে পারিনা কেন? কোথায় আজ দায়িত্ব? কোথায় মানবতা?কোথায় আমার মা বাবা নামের যোদ্ধারা? আমরা হয়ত খোজ নেওয়ার সময় পাইনা কিন্তু তারা এখনো জীবন যুদ্ধে হেরে যাননি । হয়ত এখনো ৭০ বছরের বৃদ্ধ লোকটি সকাল হলেই নেমে পরে একমুঠো চাল ক্রয় করার টাকার জন্য । এখনো হয়ত প্রিয় মা একাই ঘরের সকল কাজ করে তার কোনো সহযোগী দরকার হয়না। কিন্তু আমার ২৫ বছরের বউয়ের জন্য একজন কাজের লোকের প্রয়োজন হয় । যে মা ১০ মাস ১০ দিন পেটে রেখেছে বছরের পর বছর আমার জন্য রাতের ঘুমকে হারাম করেছে আজ তার জন্য একটি রুম বরাদ্ধ করতে পারিনা । কিন্তু কেন? তাদের অপরাধ কি? আমাদের জন্ম দিয়ে দোষ করেছে? কেন আমি ভুলে যাই যে আমিও একদিন বৃদ্ধ হবো । কেন ভাবিনা আমিও একদিন প্যারালাইস্ট হয়ে বিছানায় পরে যেতে পারি? কেন আমরা ভুলে যাই যে মা বাবা জীবনের সকল কিছু আমাদের জন্য করেছেন ? হ্যা আমরা অনেকেই বুজি কিন্তু না বোঝার ভান করি কেন ? কেন ?

আসুন আমরা সবাই শপথ করি কোনো মা বাবা নামক যোদ্ধারা যেন কখনো আমাদের দ্বারা কষ্ট না পায় । আমরা হয়ত দেখিনা আমদের বাবা মায়েরা নামাজের পর আমাদের জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করে। তারা সব সময়ই আমাদের কল্যান কামনা করে । আমরা যেন মা বাবার পূরন না হওয়া সপ্ন গুলো পূরন করে দিতে পারি। বাবা মা যেমন আমাদের ছোট বয়সে লালন পালন করেছে আমরাও যেন বৃদ্ধ হলে তাদের সে রকম সেবা করি। কোনো ৭০ বছরের বাবার যেন জীবিকার কথা না ভাবতে হয় । বৃদ্ধ বয়সে বাবা মাকে যেন দিতে পারি জীবনের সন্তোষজনক ম্যাচুরিটি ।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25