শিরোনাম:
উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামে পূর্ণাঙ্গ কমিট গঠন সুসজ্জিত গাড়িতে চেপে ‘রাজকীয়’ অবসরে গেলেন পুলিশ কনস্টেবল আকরাম বর্ণবাদী দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন ক্রিকেটার জাহিদ হিজলায় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের আরোগ্য কামনায় দোয়া মোনাজাত সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে এম এ সালাম। বোয়ালমারীতে কুমারনদীর মাটি ইট ভাটায় নেয়ার অভিযোগে ভাটা মালিককে ৫০হাজার টাকা জরিমানা সালথায় ইউসুফদিয়ায় আটদলীয় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রতিহিংসার জেরে মেহেরপুরে বেড়েই চলেছে ফসলের সাথে শত্রুতা। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন মেরাজ লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মাস্ক না পরলে ৬৪০০ পাউণ্ড পর্যন্ত জরিমানা

জানি না কপালে -চা বিক্রেতা মোহাম্মদ হৃদয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
জানি না কপালে

কঠোর লকডাউনে বিপদে পড়েছে চা বিক্রেতা মোহাম্মদ হৃদয় (১৬)। তার বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। এদিকে যে গ্রামের বাড়িতে যাবে, সে উপায়ও নেই। হৃদয় এখন কী করবে, কীভাবে চলবে, তা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।

সদরঘাটসহ রাজধানীর পুরান ঢাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করে হৃদয়। কঠোর লকডাউন জারি হওয়ার পর তার চায়ের ক্রেতা একেবারে কমে গেছে। তা ছাড়া তাকে চা বিক্রি করতে পুলিশও বাধা দিচ্ছে। নিষেধ উপেক্ষা করে চা বিক্রি করতে গিয়ে মারও খেয়েছে সে। কিন্তু নিজের খাবার জোগাতে তার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তাই লুকিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চা বিক্রি করে হৃদয়।

লকডাউনের সময় যাকে সামনে পায় তাকে হাসিমুখে চা খাওয়ার জন্য অনুরোধ করে হৃদয়। কিন্তু তার মনে কাজ করে ভয়। এই বুঝি পুলিশের সামনে পড়ল সে! হৃদয় জানায়, স্বাভাবিক সময়ে দিনে তার প্রায় ৫০০ টাকার মতো আয় হতো। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তার নিজের চলতে হয়, বাড়িতে টাকা পাঠাত হয়। এ অবস্থায় কী করবে, সে সম্পর্কে হৃদয় বলেন, ‘জানি না কপালে কী আছে!’

সদরঘাট এলাকায় হৃদয়ের সঙ্গে কথা হয়। ক্রেতা কম থাকায় তার তাড়া নেই। তার সম্পর্কে জানতে চাইলে আগ্রহ নিয়ে গল্প জুড়ে দেয় হৃদয়।

হৃদয়ের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়। তার বাবার ফলের দোকান ছিল। সে সময় পরিবারে সচ্ছলতা ছিল। হঠাৎ তার বাবার ফলের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। তারপর থেকে পরিবারে অভাব শুরু হয়।

সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে হৃদয়। পরিবারের হাল ধরতে বছর দুই আগে রাজধানীতে আসে সে। হৃদয় বলে, ‘বাধ্য হয়েই পড়ালেখা বাদ দিয়ে ঢাকায় আসি।’

পুরান ঢাকার একটি মেসে থাকে হৃদয়। ঘিঞ্জি পরিবেশে ছোট্ট একটি রুমে তারা সাতজন থাকে। মেসেই নিজে চা তৈরি করে হৃদয়। তারপর ফ্ল্যাস্কে ভরে তা বিক্রি করতে বের হয় সে। চায়ের সঙ্গে বিক্রির জন্য বেকারি থেকে হৃদয় কেনে বিস্কুটসহ অন্য খাবার। পরে সদরঘাটসহ অন্যান্য এলাকায় ফেরি করে তা বিক্রি করে।
হৃদয় জানায়, তার বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন বাড়িতে আছেন মা, বাবা আর ভাই। তাঁদের জন্য সে বাড়িতে টাকা পাঠায়।

হৃদয় বলে, লকডাউনের আগে তার বেচাবিক্রি ভালোই হতো। কিন্তু এখন অবস্থা খারাপ। সামনে ঈদ। খালি হাতে বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই। তাই লকডাউনের মধ্যেও চা বিক্রি করতে বেরিয়েছে সে।

হৃদয় বলে, ‘হাতে কিছু টাকা এলে বাড়িতে গিয়ে কয়েকটা দিন শান্তিতে থাকতে পারতাম। সবার সঙ্গে ঈদটা ভালোভাবে করতে পারতাম। কিন্তু বেচাবিক্রিই তো নেই।’

হৃদয় জানায়, তার এখনো পড়ালেখা করতে মনে চায়। মাঝেমধ্যে সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তখন তার মনে হয়, ইশ্‌, এখানে যদি সে পড়তে পারত!

হৃদয়ের সঙ্গে যারা মেসে থাকে, তারাও ফেরি করে চা-বিস্কুট বিক্রি করে। থাকা-খাওয়ার পরে যে টাকা হৃদয়দের হাতে থাকে, তা গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে তাদের সবার আয় কমে গেছে। এ কারণে সবাই এখন চিন্তিত।

অন্যদেরও আয় নেই

লকডাউনে সদরঘাট এলাকার ডিঙির মাঝিরাও বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের এখন আয় নেই বললেই চলে। এ কারণে সংসার চালাতে তাঁরা এখন হিমশিম খাচ্ছেন।

সদরঘাটে কথা হয় মধ্যবয়সী মাঝি রুবেল মাহমুদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যাত্রী নাই। তাই আয়ও নাই। না খেয়ে দিন পার করার মতো অবস্থা। কীভাবে যে সংসার চলছে, তা বোঝাতে পারব না। মাঝেমধ্যে দু-একজন যাত্রী পাই। সেই টাকায় রাতে বাজার করে নিয়ে যাই।’

লকডাউনে সদরঘাট এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলো বন্ধ। এলাকাজুড়ে পুলিশের কড়া নজরদারি। এই ফুটপাতে ফল বিক্রি করতেন পরশ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দোকান বন্ধ। আয় নাই। বাড়ি থেকে ফোন এলে লজ্জায় ধরি না। কী বলব তাদের?’

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x