জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ নির্বাচনে নৌকা বিজয়ের পেছনে চমক কার?

কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২০
নির্বাচনে নৌকা বিজয়ের

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ নির্বাচনে মেয়র পদে উপ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বিশাল ভোটের ব্যবদানে বেসরকারি ফলাফলে তিনি জয়লাভ করেছেন।

শনিবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলে ।

পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যায় ১১ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া নৌকা প্রতীকে ৬১৫৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।

নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন সেলিম জগ প্রতীকে ৩৮৮১, ধানের শীষ প্রতীকে রাজু আহমেদ ১০৩৯ এবং মোবাইলফোন প্রতীকে আবিবুল বারী আয়হান ১০১৬ ভোট পেয়েছেন।

তবে পৌরসভার মেয়র পদে নৌকার মাঝি হিসেবে বিজয়ী হবার কারন রয়েছে। বিশেষ করে এবারের ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে যেতে পারেন মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া ।

বিজয়ী হবার আগে এমনটি কানাঘোষা শুনা

যাচ্ছিল তবে সুনামগঞ্জের দুই হেভিওয়টে নেতা রাতদিন মাঠে থাকায় শেষ মুহূর্তে বিজয়ের হাসি হাসেন তিনি।তবে জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র পদে উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বিজয়ে নেপথ্য যারা কাজ করছেন তারা হলেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦

নুরুল হুদা মুকুট ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল।এই হেভিওয়েট দুই নেতার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলা শহরে হলেও

রাজনীতি টানে দলের নেতা হিসেবে ও প্রাণের প্রতিক নৌকার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে দিনরাত জগন্নাথপুরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীনভাবে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে চমক দেখালেন দুই সহোদর মুকুট ও চপল।

স্থানীয় নৌকার কর্মী সমর্থকরা জানিয়েছেন এই দুই আপন সহোদর আামদের মেয়র মিজানুর রশিদের পক্ষে দিনরাত কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে প্রমান করেছেন মুকুট ও চপল বঙ্গবন্ধুরে হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের অনুসারী হিসেবে তারা শেখ হাসিনার যেকোন নির্দেশ পালনে তারা বদ্ধপরিকর।

তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে জগন্নাথপুর পৌরসভায় বইছে আনন্দর বন্যা। নতুন করে পৌরসভার মেয়র হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া শনিবার বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ উপকমিটির সদস্য ও

মাসুম আহমদ বলেন, মুকুট ভাই আর চপল ভাইয়ের নিরলস প্রচেষ্ঠায় আজকের বিজয়। মুকুট ভাই অসুস্থ অবস্থায় দিন রাতে মাঠে ছিলেন পাশাপাশি চপল ভাই নিবেদিত ছিলেন বলে আজকের বিজয়।তিনি জানান,

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে, নৌকার সমর্থনে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতৃৃবন্দ। তবে এখানকার জনসাধারন কাছে প্রতিনিয় সকল বাধা উপেক্ষা করে দিন রাত প্ররিশ্রম করেছেন মুকুট ও চপল যা জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র পদে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য বিরল ঘটনা এবং তাদের নাম লেখা ইাতহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে বলে জানান এ নেতা।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. কামাল আহমদ বলেন, এই অল্পদিনে ‘দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ও তাঁর ভাই সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল।

যা এই বিজয়ের জন্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃৃবৃন্দর জন্য

এ মাইল ফলক হয়ে থাকবে।এ নেতা বলেন রাজনীতি হচ্ছে ক্ষমতা। আর কে না ক্ষমতা পেতে চায়? কিন্তু ইচ্ছা করলেই কি ক্ষমতা পাওয়া যায়? এই ক্ষমতা অর্জন এবং তা প্রয়োগ করার জন্য প্রয়োজন হয় একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার।

নৌকা হল স্বাধীনতা, উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রতীক।তিনি বলেন,নুরুল হুদা মুকুট ও তাঁর ভাই খায়রুল হুদা চপল ভাইর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এসব সভার আয়োজন করে। যারা ভোট দিয়েছে সকলকে আমার অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক।

এসম্পর্কে সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগ আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা ।

এই নৌকায় জনগন ভোট দিয়ে বার বার উন্নয়নের স্বাদ গ্রহন করেছেন। তিনি জগন্নাথপুর পৌরবাসীর প্রতি কৃতঞ্জা প্রকাশ করে বলেন এই উন্নয়নের দ্বারাকে আরো এগিয়ে নিতে আজ পৌরবাসী নৌকার প্রতিকে ভোটি দিয়ে প্রমানি করেছেন তারা শেখ হাসিনাকে কত ভালবাসেন। তিনি আরো বলেন,

জগন্নাথপুরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের

পতাকাতলে আজীবন সমর্থন জানিয়ে আসছেন। প্রয়াত জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত,হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে নির্বাচিত করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করে সুনামগঞ্জের সন্তান হিসেবে দেশজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান কে এই এলাকার জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সাথে নতুন মেয়র ও এগিয়ে যাবেন।এদিকে উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বিশাল জয় লাভ করেছেন।

সন্ধ্যায় ১১ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া নৌকা প্রতীকে ৬১৫৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হোসেন সেলিম জগ প্রতীকে ৩৮৮১, ধানের শীষ প্রতীকে রাজু আহমেদ ১০৩৯ এবং মোবাইলফোন প্রতীকে আবিবুল বারী আয়হান ১০১৬ ভোট পেয়েছেন।তবে নির্বাচনে অপর দুই মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবিবুল বারী আয়হান বলেন,

নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে

ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করায় তাঁরা ভোটারদের নিকট কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।নির্বাচন সহকারী রিটার্নিং অফিসার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন,

নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেননি কোন প্রার্থী। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সর্বশেষ জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আবদুল মনাফ মেয়র নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মেয়র আবদুল মনাফ মৃত্যুবরণ করলে ফেব্রæয়ারী মাসে জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ নির্বাচনসহ তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়। ২৭ ফেব্রæয়ারী মনোনয়ন পত্র দাখিল ৮ মার্চ প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হলে চারজন প্রার্থী সর্বশেষ ভোট যুদ্ধে অংশ নেন।প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমেদ (ধানের শীষ),

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন (জগ) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবিবুল বারী (মোবাইল ফোন) প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে প্রচারণায় নামেন।নির্বাচনের সকল প্রস্তুতির পর ২১ মার্চ বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনার পৌরসভার মেয়র পদে উপ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।

পরে ২১ সেপ্টেম্বর মেয়র পদে উপ নির্বাচন ঘোষণা করা হলে শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোটে বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বিজয়ী হন।

আরো পড়ুন:

বগুড়ায় ট্রাক হেলপার থেকে কোটিপতি ভূমিদস্যু আলী হাছানের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x