গঙ্গাচড়ায় ইয়াবা ফেনসিডিলসহ তিন মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মাদকের ছোবল থেকে মানবজাতিকে বাঁচানোর জন্য যুগে যুগে দেশে দেশে মাদকবিরোধী আইন হয়েছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনেক দেশে মাদকবিরোধী আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। আমাদের দেশেও কঠিন আইন আছে। বিভিন্ন দেশে মাদক প্রতিরোধ ও মাদকাসক্তের চিকিৎসার জন্য শত শতকোটি টাকা খরচ হচ্ছে। তারপরও মাদকের ব্যবহার থেমে নেই। মাদক তার কালো থাবা বিস্তার করেই চলেছে।

আজ রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে তিন মাদক কারবারি আটক হয়েছে। গত রবিবার রাতভর উপজেলার গঙ্গাচড়া সদর, আলমবিদিতর ও নোহালী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক কারবারিকে আটক করে থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন উপজেলার গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক (২৩), নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া সর্দার পাড়া গ্রামের আবু সাঈদ এর ছেলে সাদিক (২৩) ও আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি বাঁধ পাড়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদের (৫৫)।
আটককালে সাদিকের নিকট থেকে ১১ পিচ ইয়াবা ও নাজমুলের নিকট থেকে দুই বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা থাকায় তাকে আটক করা হয় বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার এর নেতৃত্বে এস আই আব্দুস সালাম, কিবরিয়া, আবুবকর সিদ্দিক, মনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ওই তিন মাদক কারবারিকে আটক করে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

১৯৬০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। ‘ওয়ার অন ড্রাগস’ স্লোগানটি প্রথম ব্যবহৃত হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৭১ সালের ১৮ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন, মাদকের অপব্যবহার জনগণের এক নম্বর শত্রু। রিচার্ড নিক্সন ফেডারেল সরকারকে মাদকের উৎপাদন, পরিবহন ও অপব্যবহার বন্ধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক দমনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে।

মাদকবিরোধী যুদ্ধের দীর্ঘ ৩০ বছর পর ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকা বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে মাদক নির্মূলের জন্য। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অবৈধ মাদকের ১০ শতাংশ জব্দ করতে পারে। বাকি ৯০ শতাংশ মাদক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকসেবীদের কাছে চলে যায়। তবে ১০ শতাংশ মাদকের জন্য কেন এত ব্যয়? মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করে অসংখ্য লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলে তাদের রাখতে জেল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে দিন দিন মাদকসেবীদের ভিড় বেড়েই চলেছে। কিন্তু মাদক নির্মূল করা যায়নি, বরং বেড়েই চলেছে।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25