শিরোনাম:
নওগাঁ জেলার আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি গ্রহনের অভিযোগ এর প্রতিবাদ সভা নওগাঁর রাণীনগরে ট্রাকের ধাক্কায় মটরসাইকেল চালক নিহত; আহত একজন রূপগঞ্জে মসজিদের বারান্দা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার রংপুরের হারাগাছে শামীম গুল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড জামালপুরে নির্বাচনকে পেছাতে চালাকী করে মামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রূপগঞ্জে কর্মহীন গরিব অসহায় বিধবা দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর টিম এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল স্যারের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস খেলা অনুষ্ঠিত স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন সভাপতি রবিউল, সম্পাদক জাহিদ, সাংগঠনিক রাজু

” কি হয়েছিল ১৫ ই আগস্ট”-

নাফিস ফুয়াদ জেলা প্রতিনিধি (নীলফামারী);
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
কি হয়েছিল ১৫ ই আগস্ট

১৫ই আগস্ট, ১৯৭৫। বাংলাদেশের ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। ঘাতকরা এই দিন জাতির পিতা ও পাঁচ পরিবারের সদস্যদের নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করে। শিশু রাসেলকেও বাঁচতে দেয়নি ঘাতকের বুলেট। বর্বর হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠা খুনিরা ছিল সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সদস্য।

পর্দার অন্তরালে সামরিক ও বেসামরিক ষড়যন্ত্রকারীরা । ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের তারাই ছিল সুবিধাভোগী । দেশি-বিদেশি অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতির এমন অরক্ষিত বাড়িতে বসবাস মোটেই নিরাপদ নয়। ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে কখনো শন্কিত ছিলেন না। অবিচল আস্থায় বলতেন, ` আমাকে কোনো বাঙালি মারবে না। ‘

১৫ই আগস্ট, সেদিন ভোরের আলো তখনও ভালোভাবে ফুটে ওঠেনি। আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠছে ঢাকা । জাতির পিতা সপরিবারে ঘুমিয়ে আছেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িতে। ঘাতকের দল ট্যাংক, কামান, মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। টার্গেট বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবার এবং আত্নীয়- প্রিয়জনকে হত্যা করা।

আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আক্রমণ শুরু হয়। মেজর মহিউদ্দিন, মেজর হুদা, মেজর পাশা, মেজর নুরের নেতৃত্বে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘেরাও করে ফেলে।

জোর করে খুনির দল বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশ করে। তখন ভোরের আলো অনেকটা পরিস্কার। গোলাগুলির শব্দে আতন্কিত ধানমন্ডির অধিবাসীরা। নীলনকশা অনুযায়ী খুনিচক্র ঝাঁপিয়ে পরলো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ওপর।

চিৎকার, হট্রগোল আর গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের। তারা একে একে হত্যা করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে। শিশু রাসেলও রেহাই পায়নি। একজন ঘাতক শিশু রাসেল কে ওপরতলা থেকে নিচে নিয়ে আসে। ভয়ে কাতর, বিহ্বল হয়ে পরে ১০ বছরের শিশু রাসেল। মায়ের কাছে যাবার জন্য সে কাঁদতে শুরু করে। নিষ্ঠুর ঘাতক রাসেল কে ওপরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। স্টেনগান থেকে বঙ্গবন্ধুর বুক লক্ষ্য করে গুলি করে ঘাতকের দল।

বঙ্গবন্ধুর বুকে ১৮টি গুলির আঘাত পাওয়া যায়। হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল,‌ শিশুপুত্র শেখ রাসেলকে। পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল, সহোদর শেখ নাসের, কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, আরজু মনি, বেবি সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নাঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ভিত্তি নির্মাণে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তারপরও বাংলাদেশের রুপকার, এদেশের সব মানুষের অতিপ্রিয় নেতাকে এভাবে জীবন দিতে হলো। এমন করুন, নির্মম, হ্রদয়বিদারক হত্যার নজির নেই বললেই চলে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে দেশি-বিদেশি চক্র এবং সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা জরিত ছিল।

খুনি চক্রের নেতৃত্বে ছিল, খন্দকার মোশতাক আহমদ। বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কারণে আমরা বিশ্বের চোখে কৃতঘ্ন জাতিতে পরিণত হয়েছি। ক্ষমতা দখলকারীরা বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কীর্তি মুছে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। কারণ বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিছিন্ন করে বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা সম্ভব নয়। কবি অন্নদাশন্কর রায় কয়েকটি পঙত্তির মধ্য দিয়ে সে কথাই বলেছেন-

‘যত দিন রবে পদ্মা যমুনা
গৌরি মেঘনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।’

(তথ্য সূত্র,) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাসনকাল।

লিখেছেন: ক্ষুদে রিপোর্টার আবু সাঈদ।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x