শিরোনাম:
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ছোট ভাই মৃত্যুতে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের শোক প্রকাশ রাসিক মেয়র লিটনের সাথে জাপান দূতাবাসের প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ মেলান্দহে শিশু ধর্ষনের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপার-কে আটক আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং এর ডেমোস্ট্রেশন প্রদর্শন হাকিমপুর কাদরীয়া দরবার শরীফের ২দিন ব্যাপি ইছালে ২২তম সওয়াব ও ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতি জোট ফেনী জেলা শাখার কমিটি গঠন ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ১১ নারীকে সম্মাননা আন্তর্জাতিক নারী দিবস ট্রাফিক ব্যবস্থা অত্যাধুনিক করতে রসিকের মতবিনিময় সভা হাতীবান্ধায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মারা গেছেন

একুশে ফেব্রুয়ারি: রক্তে অক্ষর কেনার দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

মাতৃদুগ্ধ যেমন শিশুর সর্বোত্তম পুষ্টি, তেমনি মাতৃভাষার মাধ্যমেই ঘটতে পারে একটি জাতির শ্রেষ্ঠ বিকাশ। মানুষের পরিচয়ের সেরা নির্ণায়ক মাতৃভাষা। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মৌলিক সম্পদ। মা ও মাটির মতোই প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে পূর্ব বাংলার জনগণ রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছিল সেই মাতৃভাষার মর্যাদা।

মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি : ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পরে বাংলার উপরে নেমে আসে উর্দুর অপচ্ছায়া। পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে দম্ভ করে ঘোষণা দেন ‘Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan’ তখন প্রতিবাদে, ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলাভাষী লাখো জনতা। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারী পাকিস্তানি মিলিটারির রাইফেলের গুলিকে উপেক্ষা করে বীর বাঙালি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। ঢাকার রাজপথ সেদিন লাল হয়ে যায় রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক তরুণের তাজা রক্তে। ভাষার জন্য জীবন দেবার এরকম নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই। এজন্যই বাঙালি একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে পালন করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসঃ বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর আরো একটি ঐতিহাসিক গৌরবময় ও আনন্দঘন দিন। এই দিনে বাঙালি অর্জন করেছে তার প্রাণের সম্পদ একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা UNESCO প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৩০তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতিসংঘের ১৮৮টি দেশের এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বাংলা ভাষার জন্য বাঙালির গৌরবময় আত্মদান বিশ্বমর্যাদা পায় তেমনি পৃথিবীর ছোট-বড়ো প্রত্যেকটি জাতির মাতৃভাষার প্রতিও শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শিত হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য : বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে নিজের মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের মতোই পরম সমাদরের বস্তু। মাতৃভাষাই আত্মপ্রকাশের যথার্থ মাধ্যম। ২১ শে ফেব্রুয়ারির মতো একটি ঐতিহাসিক দিনকে ‘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে পালন করার মধ্যে প্র্রতিটি মানুষকে তার মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার একটি শুভ প্রচেষ্টা নিহিত আছে।

‘একুশ আমার চেতনা/একুশ আমার গর্ব’ কেবল বাংলা ভাষাকে নয়, পৃথিবীর সকল ভাষার নিজস্ব মহিমা অক্ষুন্ন রাখার দীপ্ত শপথ নেবার দিন হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি হিসেবে আজ আমাদের সবার অঙ্গীকার সর্বস্তরে বাংলা-ভাষার প্রচার ও প্রসার।

সাংবাদিক ও ছাত্র
রাকিব হাসান রোশান

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25