শিরোনাম:

আম্পানের সাড়ে পাঁচ মাস পরেও দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে পারেনি ৫০ হাজার মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সাড়ে পাঁচ মাস পরেও দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে পারেনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা, প্রতাপনগর ও আশাশুনি সদর ইউনিয়নের মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যনুযায়ী ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি অবস্থায় নিয়মিত জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছে। সবচেয়ে সমস্যায় আছে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধরা। অনেক সময় নারীদের বাথরুম করার জন্য সন্ধ্যা বা অন্ধকারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। শ্রীউলা ইউনিয়নের পানিবন্দিরা জানান, ‘আম্পানের পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের দিকে কারও নজর নেই। হাজরাখালি, মাড়িয়ালা, কলিমাখালি, কোলা-হিলাজিয়া, লাঙ্গলদাড়িয়া, নাসিমাবাদসহ বেশ কয়টি গ্রামের মানুষ এখনও জেয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছে। এসব এলাকায় রাস্তা-ঘাট কিছুই নেই। খাওয়ার কষ্ট, পানির কষ্ট। শুধু মানুষ নয়, ছাগলসহ গবাদিপশুরাও কষ্টে আছে।’ প্রতাপনগর ইউনিয়নের পানিবন্দিরা জানান, ‘আম্পানের পর সাড়ে পাঁচ মাস পানিতে ডুবে আছে এখানকার ১৮ গ্রাম। রিং বাঁধের মাধ্যমে কয়েকটি পয়েন্টে পানি আটকানো গেলেও কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালী ভাঙন দুটিতে পানি আটকানো যায়নি। সে কারণে এখনও কুড়িকাহুনিয়া, হরিষখালী, শ্রীপুর সনাতনকাটি, গোয়ালকাটি, প্রতাপনগর, নাকনা, কল্যাণপুর, মান্দারবাড়িয়ার মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। এসব এলাকার মানুষ জোয়ার-ভাটার মধ্যে বসবাস করছে। তারা আরও জানান, ঝড়ের পর অনেকে এসে দেখে গেছে, অনেক কিছু বলেছে, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। আমাদের দুঃখ কষ্ট আমাদের ভিতরে রাখতে চাই। খাওয়ার পানির খুব কষ্ট আমাদের। গোসল করতে পারছি না, বাথরুম করতে পারছি না। বিভিন্ন সংস্থা থেকে যে খাওয়ার পানি দিচ্ছে তা খেয়েই শেষ। দেখা দিচ্ছে নানান পানিবাহিত রোগ।’ প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, ‘আমাদের কষ্টের সীমা নেই। আম্পানের পরবর্তী বাঁধ বাধার পর, দুইবার বাঁধ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ কীভাবে পারবে? একটা ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আঘাত। তিনি আরও জানান, আম্পানের পাঁচ মাস পরেও হরিষখালী ও কুড়িকাহুনিয়া, চাকলার বাঁধ দেওয়া যায়নি। শুনেছি কিছুদিনের মধ্যে সেনাবাহিনী আবারও কাজ শুরু করবে। এবার বাঁধ দিতে না পারলে আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, ‘আম্পানের সাড়ে ৫ মাস পর আজও ইউনিয়নের অনেক মানুষ পানির মধ্যে বসবাস করছে। আমাদের দুর্ভোগ আজও কমেনি। আম্পান পরবর্তী সময়ে কয়েকটি পয়েন্টে বাঁধ এবং রিং বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাজরাখালি এবং কুড়িকাহুনিয়া পয়েন্টে সেনাবাহিনী খুব দ্রুত কাজ শুরু করবে। এসব পয়েন্টে বাঁধ দেওয়ার পর লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হবে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়ন এবং আশাশুনির সদরের কিছু অংশ। তবে আগের তুলনায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। উপজেলার ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনী এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আশা করছি এসব এলাকার মানুষের দুর্দশা দ্রুত লাঘব হবে। উল্লেখ্য, গত ২০ মে রাতে সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হাতে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। আম্পানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধগুলো। আম্পানের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও আশাশুনি উপজেলার তিন ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ মেরামত করা আজও সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২২, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x