শিরোনাম:
সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে আ.লীগ প্রার্থীর পথসভা জনসভায় রূপান্তর আসন্ন ৪নং চরওয়াপদা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড) মেম্বার প্রার্থী বিলকিস সুলতানা প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে নওগাঁ জেলার আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি গ্রহনের অভিযোগ এর প্রতিবাদ সভা নওগাঁর রাণীনগরে ট্রাকের ধাক্কায় মটরসাইকেল চালক নিহত; আহত একজন রূপগঞ্জে মসজিদের বারান্দা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার রংপুরের হারাগাছে শামীম গুল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড জামালপুরে নির্বাচনকে পেছাতে চালাকী করে মামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রূপগঞ্জে কর্মহীন গরিব অসহায় বিধবা দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর টিম এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল স্যারের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

“আমাদের গ্রাম”-বড় বদনাপাড়া

রুবেল আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি রংপুর:
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১
"আমাদের গ্রাম"-বড় বদনাপাড়া

ভুমিকাঃ গ্রামের নাম বড় বদনাপাড়া। দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তে নদী কল কল গানে বয়ে চলে নিরবধি। চিত্তহারী দৃশ্যাবলিতে সমৃদ্ধ আমাদের এ গ্রাম। কবির কন্ঠে কন্ঠে মিলিয়ে যায়,

“আমাদের গ্রাম খানী ছবির মতন,
মাটির তলায় এর ছড়ানো রতন।”

সত্যিই, দিগন্ত ফসলের মাঠ আমাদের গ্রাম কে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। সারা দিনমান কৃষকের হালচাষ, দুপুরে ক্লান্ত শরীরে বিশাল বটগাছের নিচে কতই না যাত্রাপালার গল্প। সন্ধ্যায় ধুলি উড়িয়ে গরুর পালের ছোটাছুটি এক অপরুপ অনুভুমির সৃষ্টি করে এই গ্রামে। চারদিকে আম, জাম, নারকেল, তাল, সুপারী বনবিথী এ-যেন আবহমান গ্রাম বাংলার ছায়া ঢাকা সুখের নীর। পাখির কলরবে এখানে সৃর্য উঠে, পাখির ডানায় ভর করে নামে সোনালী সন্ধ্যা।

ভৌগোলিক অবস্থানঃ রংপুর জেলার, পীরগঞ্জ উপজেলার, ১৪নং চতরা ইউনিয়নে হতে ৩কি.মি দক্ষণে টোংড়ারদহ করতোয়া নদীর উপরে অবস্থিত ঘনবসতিপৃর্ন আমাদের এই গ্রাম। গ্রামের গাঁ ঘেষে বয়ে যাওয়া করতোয়ো নদীটি জুড়ে রেখেছে ৩টি জেলার প্রতিকুল। একটু দক্ষিণে হেলে পা ফেললেই ছুয়ে যায় গাইবান্ধা জেলা, আবার একটু পশ্চিমে হেলে পা ফেললেই ছুয়ে যায় দিনাজপুর জেলা। ৩টি জেলার প্রতিকুল ভেবেই জায়গা টা টোংড়ারদহ নামে পরিচিত। গ্রামের কোলঘেষে বয়ে গেছে আরো একটি ছোট্ট নদী ভৈয়শমারী। তার উপরেই ১৫নং কাবিলপুর ইউনিয়নের সীমানা ছেয়ে গেছে।

মাটি ও প্রকৃতিঃ আমাদের গ্রামের মাটি খুবই উর্বর। সবুজ শ্যামলের মুখরিত লীলা খেলায় গ্রাম টিকে যেন সব সময় প্রান জুড়িয়ে রাখে। দক্ষিণা হাওয়ায় দোল খাওয়ানো ধানগাছের ডগায় পাখিরা নেচে নেচে খেলা করে।বসতবাড়ি ও তার চারপাশে বিভিন্ন ফলজ গাছপালা, ছোট-বড় বাঁশঝাড় গ্রামটিকে ঘিরে রেখেছে।

নদীর অবস্থানঃ গ্রামের দক্ষিণ পশ্চিম পাশ দিয়ে ৩টি জেলা স্পর্শ করে বয়ে গেছে করতোয়া নদী। আবার পৃূর্ব পাশ দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে গেছে ভৈয়শমারী ছোট নদীটি।

উৎপাদিত কৃষিপন্যঃ কৃষকের ঘাম ঝড়া রৌদ্দুর, আর মৌসুমী ফসলের সেরা ফলন আনতে সকল কৃষক ই ফসল উৎপাদনে ব্যস্ত। মৌসুমী ফসল যখন ঘরে তোলা হয়, তখন কৃষাণীর মুক্তা-ঝড়া হাসিতে ভড়ে উঠে আঙ্গিনা। আমাদের গ্রামে উৎপন্ন ফসলের মধ্যে ধান, ভুট্টা,গম, কলা,ডাল, সরিষা, পাট, বিভিন্ন শাক-সবজি ইত্যাদি। জমি উর্বর হওয়ার দরুন বিশেষ কোনো আধুনিক টেকনোলজি কম থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা ভালো ফসল পেয়ে থাকে।গ্রামের কৃষকরা খুবই পরিশ্রমী বলে জমি কখনোই পতিত ফেলে রাখে না। বছর জুড়ে নানা সময়ে নানা ফসল ফলানো হয় ।

গ্রামের ইতিহাসঃ আমাদের গ্রামের সত্যি কারের ইতিহাস এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আসলে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ চলে গেছে। আমাদের গ্রামের ইতিহাস একমাত্র কয়েক যুগ আগের পৃর্বপুরুষগন বলতে পারতো। কোথায় কবে থেকে কিভাবে আমাদের গ্রাম গড়ে উঠেছে সেটা আজও সৃতির পাতায় অজানা। হয়তো একদিন এমন কেউ এসে আমাদের মনে করিয়ে দিবে বড় বদনাপাড়ার ইতিহাস।

গ্রামের বর্ণনাঃ আমাদের গ্রামটি পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝারি আকারের একটি গ্রাম। গ্রামের মানুষজন খুবই সহজ সরল। সবুজ মাঠ প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গেছে ছোট রাস্তা। দুইপাড়ার রাস্তা এসে মিলিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী চতরাহাটে যাওয়ার পাকা রাস্তাটির সাথে। গ্রামটি পৃর্ব-পশ্চিমে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং উত্তর-দক্ষিণ এক কিলোমিটার প্রস্থ। গ্রামে লোকসংখ্যা প্রায় তিন হাজার দুই শত। গ্রামে ঘন বসতি হওয়া সত্যেও একে অপরের বিপদ আপদে পাশে দাড়িয়ে, ধনী-গরীব সকলে মিশে বসবাস করে।

গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য : আমাদের গ্রামখানি ছবির মতাে। আম-জাম, কাঁঠাল-লিচু, নারিকেল-সুপারি, শিমুল-পলাশ, তাল-তমাল আর নানাজাতের গাছপালায় সুসজ্জিত আমাদের এই গ্রাম। ঝােপঝাড় লতাপাতার নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সবার মন কেড়ে নেয়। পাখপাখালির কলকূজনে সব সময়ই মুখর থাকে গ্রামখানি। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, ধান-কাউনের হাতছানি, নিঝুম দুপুরে বটের ছায়ায় গ্রামের প্রবীনদের যাত্রাপালার গল্প উদাস করে মনপ্রাণ। দিঘী-ডােবা, বিল-ঝিল- কী এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সঞ্চয়!

উৎসব ও খাবারঃ সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের গ্রাম খুবই উন্নত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে নানা ধরনের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। যেমন : চৈত্র মাসের শেষে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা যেমন, পাতাচালা, লাঠি খেলা, ঘোড়ার দৌড়, ইত্যাদি। বৈশাখ মাসে বৈশাখি মেলা, অঘাণ মাসে নবান্ন অনুষ্ঠান, পৌষ মাসে পিঠার অনুষ্ঠান ইত্যাদি। গ্রামের বিয়েতে গীত, গান, নাচ ও খাবারের আয়ােজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্কুলে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও লােকজন নানা অনুষ্ঠানের আয়ােজন করে থাকে।

ধর্মঃ আমাদের গ্রামের সকলেই মুসলিম। মসজিদের আযান কানে আসা মাত্রই, সকলে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে রওনা হয়।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ আমাদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে সরকারি বিতন ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে ছেলে মেয়ের পার্শবর্তী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়াশোনা করে। আমাদের গ্রামে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকলেও মসজিদের মক্তবঘরে ধর্মীয় শিক্ষা পাঠদান করে থাকেন।

গ্রামের কৃতি শিক্ষার্থীঃ আমাদের গ্রামের অনেক ছেলে মেয়েই আছে যারা পরিবারে শত অভাব থাকা সর্তেও নিজের পরিশ্রম দিয়ে বাহিরে পরাশোনা করে বিভিন্ন চাকুরী করছে। তার মধ্যে গ্রামে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটা গল্প রয়েছে যা সবাই কে মুগ্ধ করেছে। পৃর্ব পাড়ার, মোঃ শামসুল ইসলাম ও জাফর আহমেদ, পিতাঃ মোঃ আব্দুস সাত্তার মন্ডল, মাতাঃ মোছাঃ জামেনা বেগম। তাদের দুই সন্তান কে পরিবারের শত অভাব অনাটন খেয়ে না খেয়ে থেকেও পড়াশোনা করিয়েছেন। তারা দুই ভাই ও অনেক পরিশ্রম দিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করেছেন। তার বিনিময়ে আজ তারা দুই ভাই ই সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরী পেয়ে সমাজ সহ মা বাবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

গ্রামের বিশেষ ব্যক্তিবর্গঃ আমাদের গ্রামে অনেক ব্যক্তিবর্গ রয়েছে যারা সব সময় গ্রাম কে উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার মধ্যে অনেকেই বেঁচে আছে আবার অনেকেই মৃত্যু বরন করেছেন, বিশেষ করে, কায়কোবাদ মন্ডল সাবু, মৃত্যু-মনসুর রহমান তারা, সাহজ্জামান মন্ডল, জহির উদ্দিন প্রধান, তাদের প্রচেস্টায় আজ আমাদের গ্রামটি অনেক টাই উন্নত হয়েছে।

পেশাঃ আমাদের গ্রামে বেশ কিছু পেশার মানুষ বসবাস করে। তবে অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল, যারা কৃষি কাজ করে তারা মাঠে রোদ বৃষ্টি উপক্ষা করে খেতে কাজ করে। কেউ আবার রাস্তায় পা-ভ্যান কিংবা অটো ব্যাটারী চালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কেউ আবার বিভিন্ন ব্যাবসা বানিজ্য করে, কেউ দিন মজুরীর কাজ করে, আবার কেউ জীবিকা নির্বাহের জন্য গ্রাম ছেড়ে শহরে গিয়ে কেউ রিক্সা চালিয়ে, কেউ গার্মেন্টস কলকারখানা অথবা বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

আমার গ্রাম আমার স্বপ্নঃ আমরা গ্রাম নিয়ে আমার চিন্তা অভিজ্ঞতা আর স্বপ্নগুলো এক মুঠো তুলার মতো সব সময় প্রকাশ ই থেকে যায়। তবে আজ প্রকাশ করছি একদিন আমাদের এই কে শতভাগ শিক্ষিত ও মডেল গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। তাতে আমার মতো সকল তরুণদের একতা উদ্যোগ থাকতে হবে। সেই উদ্যোগের পরশ পাথরের স্পর্শে সেটাকে সত্যি করে তোলার পথে এগিয়ে যাবো। এই এগিয়ে যাওয়ার পথে আমার স্বপ্নে যেমন কেউ জ্ঞান দিয়ে, কেউ বুদ্ধি দিয়ে, কেউ নেটওয়ার্ক দিয়ে, কেউ বা অন্যভাবে যুক্ত হবে তেমনি আমিও অন্যের স্বপ্নে অংশ হব। যেগুলো বুঝতে পারবো, আসলেই এই চিন্তাটা অথবা স্বপ্নটা দেখার মত লোকদের আমরা তখন দেশ ও জাতি কাছে উপস্থাপন করবো। উপস্থাপন করবো সমাজের সবার কাছে, সকল প্রতিষ্ঠানের কাছে। ইনশাআল্লাহ একদিন আমাদের বড় বদনাপাড়া ছোট্ট গ্রামটি মডেল গ্রামে পরিনিত হবে।

উপসংহার : আমাদের বড় বদনাপাড়া গ্রাম আমাদের কাছে খুব প্রিয়। এ গ্রামের প্রকৃতি মায়ায় জড়ানাে। বড় বদনাপাড়ার মানুষ সহজ-সরল ও অতিথিপরায়ণ। ইছামতী নদীর সৌন্দর্য এ গ্রামকে করেছে অন্য সব গ্রাম থেকে আলাদা। বড় বদনাপাড়া গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে।

লেখক ও তথ্য সংগ্রহকারীঃ

নামঃ সাংবাদিক রুবেল আহমেদ
পিতাঃ মোঃ আনারুল ইসলাম
গ্রামঃ বড় বদনাপাড়া
পোষ্টঃ হলদি বাড়ী
ইউনিয়নঃ ১৪নং চতরা
থানাঃ পীরগঞ্জ জেলাঃ রংপুর।

ফটোগ্রাফার ও তথ্য সংগ্রহ সহযোগীতায়ঃ

নামঃ মোঃ জয়নুল আবেদীন (আপেল)
পিতাঃ মোঃ জহির উদ্দিন প্রধান
গ্রামঃ বড় বদনাপাড়া।

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x