শিরোনাম:
নওগাঁ জেলার আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জমি গ্রহনের অভিযোগ এর প্রতিবাদ সভা নওগাঁর রাণীনগরে ট্রাকের ধাক্কায় মটরসাইকেল চালক নিহত; আহত একজন রূপগঞ্জে মসজিদের বারান্দা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার রংপুরের হারাগাছে শামীম গুল ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড জামালপুরে নির্বাচনকে পেছাতে চালাকী করে মামলা- প্রতিবাদে মানববন্ধন রূপগঞ্জে কর্মহীন গরিব অসহায় বিধবা দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর টিম এর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল স্যারের ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাঁস খেলা অনুষ্ঠিত স্বপ্নের আলো ফাউন্ডেশন সভাপতি রবিউল, সম্পাদক জাহিদ, সাংগঠনিক রাজু

আনিসার সংকীর্ণ জীবন

আসাফ উদ্দীন নাভিল।
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

আনিসা ছিল আমার সেই ছোট বেলার সহপাঠী। ক্লাস ৫ থেকে একসাথে ক্লাস ১০ পর্যন্ত পড়েছিলাম।কিন্তু তার সাথে কোনোদিন কথা হয়নি।
জেএসসি পরিক্ষার পরে আনিসা গ্রুপ বেছে নিয়েছিল বিজ্ঞান আর আমি ব্যবসায় শিক্ষা।আলাদা গ্রুপ হওয়ার কারণে তার সাথে কখনো কথা বলা হয়নি।ফলে আস্তে আস্তে তার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।
ক্লাস ৯ এর পরিক্ষার পরে যখন নতুন ক্লাস ১০ এ ভর্তি হলাম তখন দেখতেছি একটা মেয়ে স্কুলে বোরকা পড়ে আসে। অনেকেই বোরকা পরে আসত কিন্তু সবাইকে তেমন খেয়াল করি নাই।যাইহোক, একদিন বন্ধুদের থেকে জিজ্ঞেস করে বসলাম মেয়েটি কে?


মেয়েটির পরিচয় দিতে গিয়ে বন্ধুরা বললো মেয়েটি নাকি আনিসা!আরো বললো আনিসা নাকি হজ্ব করছে!তখনতো অভাক,আমাদের বয়সী মেয়ে হজ্ব করছে।তখন ভেবেই নিয়েছিলাম মেয়েটি হয়তো খুব ভালো।
এরপরে মোটামুটি আনিসা নামের মানুষটার কথা ভুলেই গিয়েছি।এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলো।কয়েকজন ছাড়া মোটামুটি আমাদের স্কুলের সবাই পাস করেছিল।তারপর যে যার যার মতো কলেজে ভর্তি হলো।


আমি একটা সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে কলেজের কাছাকাছি একটা কোচিং এ ভর্তি হলাম।কোচিং টা হয়েগিয়েছিল অনেক দূরে। তাই৩-৪ মাস কোচিং করার পরে সেই কোচিং-এ যাওয়াএকটা বিরক্তিকর বিষয় হয়ে উঠেছিল।

তারপর বাড়ির কাছাকাছি একটা কোচিং-এ ভর্তি হলাম এবং প্রায় এক মাস পড়েছিলাম। কোচিং-এ ভালো না লাগার কারণে আবার পারি দিতে হলো সেই দূরের কোচিং-এ । কিন্তু মজার একটা বিষয় হচ্ছে বাড়ির কাছাকাছি কোচিং-এ পড়া এক মাসের মধ্যেই স্কুলের প্রায় ছেলেমেয়েদের সাথে দেখা হয়েছিল।দেখেছিলাম আনিসা নামের সেই মেয়েকেও।

এরপর হঠাৎ একদিন আমার এক বন্ধু মেসেঞ্জারে ভয়েস পাঠালো।ভয়েসটা শোনার পর বড় একটা ধাক্কা খেলাম।কারণ ভয়েসটার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।ভয়েসে শুনলাম যে আনিসা নাকি মারা গিয়েছে!খবরটা শোনার পর আমার শরীর থরথর করে খাপছিল । তারপর নিজে স্বাভাবিক হয়ে সকল বন্ধুদের সেই বাস্তব কথাটা শোনাতে হলো।

সবকিছুর পর বুজতে পারলাম জীবনে কয়দিন বেঁচে থাকব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।আল্লাহ তায়ালা যখন ডাক দিবে সেদিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যেতে হবে।আর এটাই হলো সবচেয়ে বড় ধ্রুব সত্য।

এখনো অনেক ছোট। জীবনে অনেক সময় আছে। এরকম চিন্তা না করে যেই সময়টা যাচ্ছে সেটার মধ্যেই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করব।কারণ মনে রাখতে হবে আনিসা নামের সেই মেয়েটিও আমাদের বয়সী ছিল।


আমি পড়ালেখায় ভালো,আমি বড়লোক বাবার সন্তান, আমি সরকারি কলেজে পড়ি।এই ধরনের চিন্তা করা উচিত নয়। কারণ একদিন আমাদের সবাইকে সেই মাঠির বিছানায় ঘুমাতে হবে।সেখানেতো আমাদের সেই ভালো পড়ালেখা,টাকা আর সরকারি কলেজ কাজে দিবে না।

যে সময়টা যাচ্ছে সে সময়টাকে অনেকে কাজে লাগায় আবার অনেকে হেলায় কাটিয়ে ফেলি।
এখন পছন্দ আপনার!
সময়কে হেলায় কাটিয়ে দিবেন! নাকি সময়ের সঠিক ব্যবহার করবে!

এই বিভাগের আরও খবর
কপিরাইট ©২০০০-২০২০, WsbNews24.com এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x