
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে সরকারি যানবাহন ব্যবহারে অনিয়ম, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি এবং সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে কার্যালয়ের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়াকৃত যানবাহন ব্যবহারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকলেও কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত সরকারি গাড়িই ব্যবহার করা হলেও পার্টনার প্রকল্পের পরিবহন খাত থেকে গাড়ি ভাড়া বাবদ অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।
সূত্রগুলোর অভিযোগ, বাস্তবে ভাড়াকৃত কোনো যানবাহন ব্যবহার না করেই পরিবহন খাতের অর্থ উত্তোলন করা হয় এবং সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো হয়নি।
এদিকে গোপন সূত্রের দাবি, সরকারি গাড়ির প্রকৃত চলাচলের তথ্য গোপন রাখতে চালকের সহযোগিতায় গাড়ির ওডোমিটার (মিটার) ইচ্ছাকৃতভাবে অকার্যকর বা বন্ধ রাখা হয়। ফলে গাড়িটি কত কিলোমিটার চলেছে, তার সঠিক তথ্য সরকারি নথিতে প্রতিফলিত হয় না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সরকারি গাড়ির ওডোমিটার ইচ্ছাকৃতভাবে অকার্যকর রাখা এবং প্রকৃত ব্যবহার গোপন করা সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক জবাবদিহিতার পরিপন্থী। অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে তা সরকারি আর্থিক বিধিমালা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি এবং সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গাড়ি ব্যবহারের আগে নির্ধারিত রিকুইজিশন ফরম পূরণ করা হয় না এবং নিয়মিত লগবুকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। ফলে কোন কর্মকর্তা কখন, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কার্যালয়ের এক সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসব অভিযোগের বিভিন্ন দিকের সত্যতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরাধীর খোজে প্রতিদিন, যেকোন খবর প্রকাশের জন্য মেইল করুন- wsbnews24@gmail.com
Copyright © 2026 wsbnews24.com. All rights reserved.