নোটিশ:
  • আরো উন্নত ও সুপার ফাষ্ট ওয়েব ডেভেলপের কাজ চলছে।  আমাদের সাথে থাকার জন্য দেশ-বিদেশের সকল পাঠক ও সাংবাদিক'দের ধন্যবাদ।

সিঙ্গাপুর থেকে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎকারী ও সন্ত্রাসী হামলা করার কারণে কারাগারে গেলেন মিজান ভূইয়া

বেলাল হোসেন শিকদার
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
39.5kভিজিটর

মুলাদী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত হাকিম ভূঁইয়ার ছেলে আ’লীগ নেতা মিজান ভূইয়া(৩০) সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাত করে নিয়ে এসে গায়ের গরমে বৃদ্ধদের সন্ত্রাসী হামলা করার কারণে গতকাল তাকে বিজ্ঞ আদালত কারাগারে প্রেরণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজান ভূইয়া, হেদায়েত ভূইয়া, সালাম ভূঁইয়া, সহ তার সঙ্ঘপাঙ্গরা এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, রাহাজানি সহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হয়ে গায়ের জোরে ধারাকে সরা জ্ঞান করে মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে আসছে।তারিই ধারাবাহিকতায় গত ৩০/০ ৩/২০২৬ ইং তারিখ বর্বরোচিত হামলা চালান হাবিবুর রহমান, আব্দুল হক সহ অনেকের উপর।

উক্ত হামলার কারণে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ইউসুফ আলী। যাহার মামলা নং হল জি আর ৫৩/২৬। উক্ত মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ মিজান ভূইয়াকে। উক্ত মামলার সকল আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আ’লীগের নেতা বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়।উক্ত মামলাযর ঘটনার সত্যতা পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন মুলাদী থানা পুলিশ।

প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালতে আসামিরা হাজিরা দিতে আসলে বিজ্ঞ আদালত মিজান ভূঁইয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে আছেন। উক্ত মামলায় আসামিদের নামে যে অভিযোগ আনা হয় তা হুবহু তুলে ধরা হলো অভিযোগ হল,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মোঃ ইউছুফ আলী (৫৯), পিতা-মোঃ আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার, সাং-বোয়ালিয়া, ৮নং ওয়ার্ড, থানা-মুলাদী, জেলা-বরিশাল থানায় হাজির হইয়া এজাহারের মাধ্যমে জানাইতেছি যে, আসামীরা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা আইনের তোয়াক্কা করে না।

আমার আপন ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে সুমন খান ১নং আসামীর নিয়ন্ত্রনে সিঙ্গাপুরে কাজ করতো। সেই সুবাদে ১নং আসামীর নিকট আমার ভাতিজা সুমন খান বাংলাদেশী ১ ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ) টাকা পাওনা হয়। কিন্তু ১নং আসামী মিজান ভূইয়া উক্ত টাকা না দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।

১নং আসামীর নিকট পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসামীরা ইতিপূর্বে আমার ভাতিজাসহ আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতির হুমকি ধামকি প্রদান করে। অতঃপর ঘটনার দিন ইং ৩০-০৩-২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ১১:৩০ ঘটিকায় আমি ও ১নং সাক্ষী হাবিবুর রহমান, ৩নং সাক্ষী ইউনুস ক্বারী, ৪নং সাক্ষী মহাসিন মাস্টার মুলাদী থানাধীন সফিপুর ইউনিয়নের সফিপুর সাকিনস্থ খান বাজার ছানাউল ভূইয়ার মুদি দোকানের সামনে কাঁচা রাস্তার উপর গিয়ে ১নং আসামীকে পাইয়া আমার ভাতিজার টাকা ফেরত চাইলে সকল আসামীরা একত্রিত হইয়া ধারালো দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়া ঘটনাস্থলে আসিয়া আমাকেসহ ১, ৩ ও ৪নং সাক্ষীকে এলোপাথারীভাবে লাঠি ও লোহার রড দিয়া পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে

নিলাফুলা জখম করে। ৩ ও ৫নং আসামী আমাকে ধরিয়া রাখিলে ২নং আসামীর হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া কোপ দিলে উক্ত কোপ আমার মাথার পিছনে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। *১নং আসামীর হাতে থাকা লোহার রড দিয়া আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারী দিলে আমি মাটিতে শুয়ে – পরিলে উক্ত বারী আমার ডান পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলে লাগিয়া গুরুতর হাড়ভাঙ্গা জখম হয়। ৪নং আসামীর হাতে থাকা লাঠি দিয়া ১নং সাক্ষীকে এলোপাথারীভাবে পিটাইয়া বাম চোখের উপরে কপালে নিলাফুলা ও ছেলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। ৪নং আসামী ৩নং সাক্ষীকে এলোপাথারীভাবে লোহার রড দিয়া পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। ৬-১০নং আসামী ৪নং সাক্ষীকে এলোপাথারীভাবে লোহার রড ও লাঠি দিয়া পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে।

এছাড়াও ৬-১০নং আসামী ১,৩ ও ৪নং সাক্ষীকে এলোপাথারীভাবে লাঠি দিয়া পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুল জখম করে। আমার ছেলে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার টিকেটের জন্য আমার নিকট থাকা নগদ ১,১০,০০০/-(এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা ২নং আসামী নিয়ে যায়। আমাদের ডাক চিৎকারে সাক্ষীরাসহ আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে আসামীরা আমাকে সহ ১,৩ ও ৪নং সাক্ষীকে প্রকাশ্যে খুন জখমের হুমকি প্রদান করিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরবর্তীতে অন্যান্য সাক্ষীগন আমাকেসহ ১,৩ ও ৪নং সাক্ষীকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করিয়া চিকিৎসার জন্য মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ ও ৪নং সাক্ষীকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং আমাকেসহ ১নং সাক্ষীকে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখে। উক্ত ঘটনার বিষয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ আমার আত্মীয় স্বজনকে অবহিত করিয়া মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করিয়া থানায় আসিয়া অত্র এজাহার দায়ের করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল।

বর্তমানে উক্ত মামলার বাদী এবং সাক্ষীরা মামলার সন্ত্রাসী আসামিদের জীবন মরণের ভয়ে আছেন। কোন সময় কাকে গুম হত্যা করে ফেলে সেই বিষয়ে। মামলার বাদী প্রতিবেদককে বলেন, আমার মামলায় যারা আসামি তারা এলাকার দূর্দান্ত সন্ত্রাসী লোক তাই আমরা জীবন মরণের ভয়ে থাকি। মামলার বাদী প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সাহায্য কামনা করেন। মামলার এক নাম্বার আসামি জেলে থাকায় তার কোন বক্তব্য দেওয়া গেল না। অন্যান্য একাধিক আসামিকে ফোন করলে তারা ফোন রিসিভ করেনি।

নিউজ শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
Copyright©2025 WSB News24 All rights reserved
Desing & Developed BY ServerNeed.Com
themesbazarwsbnews25
x